মাঝেরহাটে উদ্ধারকারীদের খাবার যোগাচ্ছে আমিনিয়া

সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: উৎসবেও আছি আবার উদ্ধারকারীদের জন্যও আছি৷ অন্তত নিজেদের জন্য এমনই ক্যাচলাইন করে দিয়েছে কলকাতার বিখ্যাত আমিনিয়া রেস্তোরাঁ৷ মাঝেরহাট ব্রিজে ভেঙে পড়ার পর শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ৷ সেখানেই প্রায় ৪০০ জনের মুখে ভেজ ও চিকেন বিরিয়ানি তুলে দিচ্ছে এই সংস্থা৷ বছরের পর বছর ধরে বিরিয়ানি ভারতবাসীর মন জয় করে এসেছে ৷ এবারে এই বিরিয়ানি মন জয় করছে মাঝেরহাটে উদ্ধারকারী এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশের ডিএমজি, কলকাতা পুলিশের অন্য সদস্য এবং স্বেচ্ছা সেবকদের৷

উদ্ধারকারীদের জন্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিরিয়ানি সরবরাহ করছে আমিনিয়া৷ করে অনেকেই উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হাতও লাগান৷ আমিনিয়ার রেস্তোরাঁর কর্মী এবং পরিচালন গোষ্ঠীর অনেকেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন৷ সেই সময়ই তারা সিদ্ধান্ত নেন উদ্ধারকারীদের খাবার খাইয়ে এই বিপর্যয়ে তারা যোগদান দেওয়ার চেষ্টা করবেন৷ সেই রাত থেকেই তারা উদ্ধারকারীদের জন্য দু রকমের বিরিয়ানি পাঠান ৷ আমিনিয়ার অপারেশনাল হেড ফিরোজ মোল্লা জানান,” ৯০ বছর ধরে আমিনিয়া মানুষকে বিরিয়ানি খাওয়াচ্ছে৷ আজ আমিনিয়া কে বিখ্যাত ব্র্যান্ড হিসেবে কলকাতাবাসীরাই প্রতিষ্ঠিত করছে৷ এই ধরনের বিপর্যয়ে আমরা যদি মানুষের পাশে দাড়াতে পারি তাহলে সেই সুযোগ কোনও দিনও ছাড়ব না৷ যতদিন মাঝেরহাটে এই উদ্ধারকাজ চলবে আমরা সেখানে বিরিয়ানি জল পাঠাব৷ নাগরিক হওয়ার কর্তব্য পালন করতে চাই আমরা৷

উপমহাদেশে বিরিয়ানির ইতিহাস বহু পুরনো৷ কোনও কোনও মত বলে ভারতে বিরিয়ানি প্রবেশ করেছিল ১৩৯৮ সালে৷ বলা হয় যোদ্ধা আমির তিমুরের হাত ধরে৷ কোনও কোনও ইতিহাসবিদ এটাও বলেন ভারতে মুগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিরিয়ানির প্রচলন৷ এই রকম নানা বিধিমত প্রচলিত রয়েছে৷ তবে মত ভিন্ন হলেও বিরিয়ানির স্বাদ ও গুণমান সম্পর্কে কোনও দ্বিমত থাকতে পারেনা বলেই মনে করে মানুষ৷ আর কলকাতার আমিনিয়ার কথা তো সবার মুখে মুখে৷ উৎসবের দিনেও তারা সদা ব্যস্ত৷ দুর্ঘটনার পরেও৷ পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটি এবার বিপর্যয়ে নিজেদের তৈরি বিরিয়ানি সরবরাহ করছে৷
ফিরোজ মোল্লা জানিয়েছেন, প্রতিদিন ৪০০-র ও বেশী বিরিয়ানি প্যাকেট পাঠাচ্ছি আমরা৷” তিনি বলেন, ” নাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য ভেবেই আমরা এই কাজ করার চেষ্টা করছি৷ এই কাজের জন্য কত টাকা ব্যয় হচ্ছে সেটা আমরা জানাতে চাই লা৷ টাকার থেরে মনুষ্যত্বের দাম অনেক বেশি৷” এমন একটি ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালান কতটা কঠিন তা আর বলার অপেক্ষা থাকেনা ৷ এই কাজের মাঝে আমিনিয়ার পাশে থাকার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন উদ্ধারকারীরা৷ এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল এখনও তিলোত্তমার মানবিক মুখ হারিয়ে যায়নি৷

- Advertisement -

দিল্লির বাদশা শাহজাহানের বেগম মমতাজ একবার সেনা শিবিরে পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন ৷ সেখানে সেনাদের রুগ্ন চেহারা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বেগম ৷ তৎক্ষণাৎ তিনি রাঁধুনিকে নির্দেশ দেন এমন একটি ব্যঞ্জন তৈরি করতে যান পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ৷এবং স্বাদেও দারুণ ৷ তারপর থেকেই ভারতে নাকি বিরিয়ানির প্রচলন ৷

Advertisement
---