রাজনাথের পথে হেঁটে বাঙালি হলেন অমিত

নয়াদিল্লি: বাংলা দখল করতে হলে আগে বাঙালি হতে হবে। এই সারবত্তাটা খুব ভালো বুঝেছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই কারণে বাংলায় আসার আগে নিজেদের বাঙালি বলে জাহির করতে আসরে নেমেছে পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতারা।

দেশের উত্তর এবং মাঝের রাজ্যগুলিতে দাপটের সঙ্গে শাসন করেছে বিজেপি। দক্ষিণের রাজ্য কর্ণাটকেও সরকার গড়েছে পদ্ম শিবির। পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যে এই মূহূর্তে বিজেপির সরকার চলছে। সেই তালিকায় একন ঠাঁই হয়নি পশ্চিমবঙ্গের। অথচ দলের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন বাঙালি এবং এই রাজ্যেরই বাসিন্দা।

এই অবস্থায় বাংলা দখল করতে মর‍্যা হয়ে উঠেছে বিজেপি। লোকসভা ভোটের আগে তাই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করার পরিকল্পনা করেছে বিজেপি নেতারা। আজ মঙ্গলবার মালদহ থেকে শুরু হবে দলীয় সভাপতি অমিত শাহের সভা। এছাড়া নরেন্দ্র মোদীও রাজ্যে আসবেন সভা করতে।

বিজেপির বিরুদ্ধে একটা অবাঙালি বা ‘হিন্দিভাষী’ তকমা রয়েছে। অনেক নেতারা বাংলা বলতে পারেন না এমন অভিযোগও রয়েছে। বাংলা ভাষা না জেনে বাংলা দখল করা যে স্বপ্নাতীত বিষয় তা বেশ বুঝতে পেরেছে বিজেপির সীর্ষ নেতৃত্ব। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গে আসার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলায় পোস্ট করছেন নেতারা।

সোমবার রাতের দিকে নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বঙ্গ বিজেপির পোস্ট শেয়ার করে অমিত শাহ লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমার ২ দিনের সফরে মালদা (২২ জানুয়ারি) ও ঝাড়গ্রামে (২৩ জানুয়ারি) আমি জনসভা করব। মমতা দিদির তোষণের রাজনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি।”

এর আগে এই একই পথে হেঁটেছিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে কলকাতায় আসার আগে ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে নিজের নাম বাংলায় বদলে ফেলেছিলেন রাজনাথ। পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন সভা করতে গিয়ে বাংলায় বক্তব্যের সূচনা করেছেন নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশে গিয়েও জীবনানন্দের কবিতা আওড়েছিলেন মোদী। রাজনাথ সিং-এর মুখে অবশ্য তেমন কিছু শোনা যায়নি।

তবে মাস খানেক আগে কলকাতার মেয়ো রোডে সভা করতে এসে দু’কলি বাংলা বলেছিলেন অমিত শাহ। এবার নির্বাচনি প্রচারে এসে কী তিনিও মোদীর মতোই বাংলা বলবেন? অমিত শাহের মুখে শোনা যাবে রবীন্দ্রনাথের কবিতা? তা জানতে অবশ্য আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে।

-------
----