রোহিঙ্গা! বাংলাদেশি! এত স্বজনপোষণ! অবাক অমিত শাহ

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ভারত ভাগ হয়েছিল ধর্মীয় কারণেই৷ তাই প্রতিবেশি দেশ থেকে আসা মানুষদের অনুপ্রবেশকারী এবং স্মরণার্থী – এই দুই ভাগে ভাগ করতে চায় বিজেপি৷ কলকাতায মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে আরও একবার বিষয়টা পরিষ্কার করে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত অনীলকুমার শাহ৷

পড়ুন আরও- ”নেহরু গোমাংস খেয়েছিলেন, তাই তিনি পণ্ডিত হতে পারেন না”

সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন অমিত, Citizenship (Amendment) Bill 2016 নিয়ে তাঁর দলের ভূমিকা কী হবে? তিনি কী ওই বিলের বিরোধীতা করবেন? পারবেন বিরোধীতা করতে? Citizenship (Amendment) Bill 2016 এখন সংসদের joint select committee তে গিয়েছে ২০১৬ সালের অগস্ট মাসে৷ বিশেষজ্ঞরা অসামের বরাক উপত্যকা এবং মেঘালয়ে গিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে৷

- Advertisement -

পড়ুন আরও- মমতার বিরুদ্ধে অস্ত্র শানাতে দশভুজাকে ভরসা বিজেপির

মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে অমিত এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্থান থেকে আসা মুসলমানরা যেমন বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, অন্যদিকে ওই দুই দেশ থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি, শিখ বা খ্রীস্টানদের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা হলেন স্মরণার্থী৷ ভারতের বিজেপি সরকার, প্রতিবেশি দেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের আশ্রয় দেবে৷ কারণ, তাঁরা বিপদের মুখে নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন৷ অন্যদিকে মুসলমান অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে, কারণ সীমান্তের ওপার থেকে রোজগার বা বাসস্থান খুঁজে পেতে, কিংবা কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই তারা এদেশে এসেছে৷ তিনি বলেন, ‘‘সারা রাজ্যে (বাংলায়) বাংলাদেশিরা অস্ত্র হাতে ঘুরছে, বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে৷ এ চলতে পারে না৷ এসমের মতই রাজ্যেও এনআরসি প্রয়োজন৷’’

অসমে NRC বিতর্ক শুরু হওয়ার অনেক আগেই Citizenship (Amendment) Bill 2016 সংসদে পাশ হয়েছে৷ সেই বিলে আইনের সংশোধন হয়েছে৷ তাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্থান থেকে আশা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি, শিখ বা খ্রীস্টানরা শুধু যে স্মরণার্থী হয়ে থাকবেন তাই নয়, নাগরিকত্ব পাবেন৷ সর্ত, যিনি নাগরিকত্বের আবেদন করবেন তাঁকে অন্তত ৬ বছর ভারতে থাকতে হবে৷ শুধু তাই নয়, শেষ ১২ মাস ওই আবেদনকারীদের ভারতে থাকাও বাধ্যতামূলক৷ যদিও এই বিল সংবিধানের আর্টিকেল ১৪ -এর পরিপন্থী৷ আর্টিকেল ১৪ – সমানতার কথা বলে৷ কিন্তু বিজেপির যুক্তি, ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ৷ ভারতীয় মুসলমানদের বাকি দেশবাসীর মতো সমান অধিকার রয়েছে৷ ভারতীয় মুসলমানরা বিজেপির ভাই৷ কিন্তু বেআইনি অনুপ্রবেশকারী মুসলমানদের নিজের দেশে ফিরতেই হবে৷ অমিত শাহ এদিন জানান, ‘‘বাংলার হিন্দু-মুসলমান ভাইরা বাংলাদেশি মুসলমানদের দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছেন৷ তাঁদের বরাদ্দ খাচ্ছে বাংলাদেশিরা৷ তা চলতে পারে না৷’’

অসম চুক্তি (Assam Accord) এর উল্লেখ করে অমিত শাহ এদিন বলেন, ‘‘অসমের জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণ বা এনআরসি -ইস্যুতে যাবতীয় বিতর্কে বারবার উঠে আসছে অসম চুক্তি বা Assam Accord এর প্রসঙ্গ৷ রাজীব গান্ধী অসম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন৷ অসমে নাগরিকপঞ্জিকরণ নিয়ে বিতর্ক তোলার অধিকার নেই কংগ্রেসের৷ তবুও রাহুল গান্ধী এনআরসি-এর বিরোধীতা করছেন৷ আর মমতা দিদি রাজ্যকে রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি সব আছে৷ এত স্বজন পোষণ!’’

Advertisement
---