স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া: সম্প্রীতির পীঠস্থান বললেও কম বলা হয়৷ যেখানে পূজিত হন দেবী ভদ্রকালী, সেখানেই আরাধনা চলে পীরবাবার!

স্বভাবতই, ফি বছরই পয়লা মাঘ সম্প্রীতির এই পীঠস্থানকে ঘিরে উপছে পড়ে পুণ্যার্থীদের ভিড়৷ মহম্মদ মহসিন, আনন্দ চৌধুরীরা এক সঙ্গে পরিবেশনা থেকে পাতপেড়ে প্রসাদ খাওয়া সবই করে থাকেন৷ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন জাতপাত নিয়ে হামেশাই হানাহানির খবর শুনতে পাওয়া যায়, তখন এরাজ্যের পুরুলিয়া জেলার প্রত্যন্ত হিড়বহাল গ্রাম যেন এক ভিন্ন গ্রহের ‘দ্বীপ’ ৷ যেখানে জাতপাতের উর্ধে উঠে বাসিন্দাদের মনে ঠাঁই পেয়েছে একটাই ধর্ম, মানব ধর্ম৷

হিড়বহাল গ্রামটি পুরুলিয়ার ২ ব্লকের অন্তর্গত৷ পাহাড়ে-জঙ্গলে ঘেরা পুরুলিয়া শহর থেকে ১৫ কিমি চড়াই উতরাই ভেঙে পৌঁছন যায় এখানে৷ কোনও ব্রাহ্মণ বা মৌলবী নয়, প্রতি বছর হিন্দু ও মুসলিমের এই সম্প্রীতির পুজো হয় গ্রামের একটি তফশিলি পরিবারে৷ বর্তমানে পুজোর গুরুভার বর্তেছে মন্দিরের সেবাইত দাসুদেব বাউরি ও তাঁর শিষ্যদের ওপরে।

গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে বাঁশবাগানের ভিতরে রয়েছে এই মন্দির। পয়লা মাঘের এই পুজোর বিশেষত্ব একটাই পশু বলি। ৫০০ বছর আগে পুজোর সূচনা থেকেই বলির এই রীতি চলে আসছে৷ দাসুদেববাবু বলেন, ভক্তদের মনস্কামনা পূরণের জন্য দেবী ভদ্রকালীর উদ্দেশ্যে ছাগল, ভেড়া, হাঁস, ও পায়রা বলি দেওয়া হয়। আর পীরবাবার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় মোরগ বলি৷

গ্রামের প্রবীণ মানুষেরা জানান, এই পুজো কত প্রাচীন তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে আনুমানিক ৫০০ বছর ধরে চলে আসছে এই পুজো৷ প্রথমে বাঁশবাগান লাগোয়া মাটির একটি ছোট ঘরে শুরু হয়েছিল দেবী ভদ্রকালীর আরাধনা৷ পরে স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে ভদ্রকালীর মন্দিরেই শুরু হয় মুসলিমদের ইষ্ট দেবতা পীরবাবার আরাধনা।

সারা বছর আচার বিধি মেনে তিথি অনুযায়ী পুজো হলেও পয়লা মাঘ বিশেষ এই দিনে বেশ ঘটা করে ভদ্রকালী এবং পীরবাবার পুজো হয়ে থাকে। আর এই পুজোকে ঘিরে জাত, পাতের উর্ধে উঠে মানব বন্ধনে আবদ্ধ হন সব সম্প্রদায়ের মানুষ৷

----
--