দেরাদুন: যুদ্ধবিমানে স্বপ্নের উড়ান নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে একের পর এক মহিলা। এবার সেই তালিকায় আরও একটা নাম, আঁচল। বাবা চা বিক্রি করেন। তাতে কি! মেয়ের সাফল্যের উচ্চতা আজ আকাশ ছুঁয়েছে। সারা দেশ থেকে যে ২২ জন নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের অন্যতম আঁচল।

উত্তরাখণ্ডের বন্যাই তাঁকে এই পেশার দিকে টেনে এনেছিল। সেনাবাহিনী যেভাবে মানুষকে উদ্ধার করেছিল, তা দেখেই মুগ্ধ হয় সে। দেশবাসীর জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে চেয়েছিল সে। আজ সে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানের পাইলট।

Advertisement

মধ্যপ্রদেশের নিমাচের বাসিন্দা আঁচল গঙ্গওয়াল। বাবা চা বিক্রি করেন। কিন্তু মেয়ের পড়াশোনায় কোনও খামতি রাখেননি। আঁচল ছোটবেলা থেকেই সে স্কুলের টপার। বাস্কেটবল এবং দৌড়েও পারদর্শী।

২০১৩-তে উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নিখোঁজ হয়ে যান বহু পুণ্যার্থী। সেই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল আঁচলকে। তখনই স্বপ্ন তৈরি করে ফেলেছিলেন তিনি। যে ভাবে দেশের সেনা জওয়ানরা উদ্ধারকাজ চালিয়েছিলেন, সেটাই আঁচলের জীবনের প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার দৃঢ়সঙ্কল্প শুরু তখন থেকেই।

কলেজ পেরিয়ে পুলিশের সাব ইনস্পেক্টরের চাকরিও পেয়ে যান। কিন্তু তাতে প্রস্তুতি নিতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই ছেড়ে দেন চাকরিটা। ঘটনাচক্রে লেবার ইনস্পেক্টরের চাকরিটাও হয়ে যায় তাঁর। সেই চাকরি করতে করতেই বিমানবাহিনীর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু। এয়ারফোর্স কমন অ্যাডমিশন টেস্ট-এ পাশ করেন আঁচল। পাঁচ বার ইন্টারভিউ দিয়েও সাফল্য আসেনি। তবু হাল ছাড়েননি। ছ’বারে তিনি সফল হন। তিনি এখন ভারতীয় বায়ুসেনার এক জন পাইলট। আগামী ৩০ জুন থেকে হায়দরাবাদে প্রশিক্ষণ শুরু হবে তাঁর। সেই সঙ্গে শুরু হবে তাঁর স্বপ্নের উড়ান।

----
--