বহু প্রতীক্ষার পর কাছাকাছি এলেন অঞ্জন-টুটু

কলকাতা: গলল বরফ, কাছাকাছি এলেন দুই বন্ধু৷

বৃহস্পতিবার বাগান কমিটির প্রস্তাব ছিল প্রাইভেট নয় মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব হোক পাবলিক লিমিটেড৷ এমন ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পক্ষে প্রস্তাব দিয়েছিলেন কমিটির প্রবীণ সদস্য স্বাধীন মল্লিক৷ প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করতেই শুক্রবার কোম্পানির হাংগারফোর্ড স্ট্রিটের অফিসে বোর্ডের গ্রুপ ডিরেক্টরদের বৈঠক ডাকেন টুটু বসু৷ গুরুত্বপূর্ণ সেই বৈঠকেই কাছাকাছি এলেন দুই বন্ধু৷ হাত ধরাধরি করে সাংবাদিক বৈঠকও করতে দেখা গেল দু’জনকে৷

মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে পাবলিক করার প্রস্তাবকে এদিনের বৈঠকে মেনে নিলেন বিরোধী গোষ্ঠীর সৃঞ্জয়-দেবাশিস৷ বৈঠক শেষে টুটু-অঞ্জন যৌথ সাংবাদিক সন্মেলন করে জানিয়েছেন আইনি পরামর্শের পরই প্রাইভেট থেকে পাবলিক করার প্রক্রিয়া শুরু হবে৷ তবে জটিলতা বিস্তর তা দুই পক্ষই মেনে নিচ্ছেন৷ এদিন পদত্যাগী সভাপতি টুটু বসু ক্যামেরার সামনে বাগান সচিব অঞ্জনের সঙ্গে হাত মেলান৷ তিনি জানিয়েছেন, নতুন যে কমিটি দায়িত্বে আসবে, সেই কমিটিই প্রাইভেট থেকে পাবলিক করার রূপরেখা তৈরি করবে৷

- Advertisement -

শুধু তাই নয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অঞ্জনের দিকে মাইক্রোফোন এগিয়ে দেন তিনি৷ বাগানের বর্তমান রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থায় দুই বন্ধুর কাছাকাছি আসার এই ছবি অবশ্যই নির্বাচনের আগে অন্য মাত্রা যোগ করল বলা চলে৷

কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করা দুই কর্তা দেবাশিস দত্ত ও সৃঞ্জয় বসুও এই বৈঠকে এদিন হাজির ছিলেন৷ তাঁদের থাকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে৷  পদত্যাগ করা দু’জন কীভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন সেই নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে৷ বৈঠক শেষে দেবাশিস দত্ত অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন দুই কর্তা তাঁদের পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিয়ে ফের বোর্ডের গ্রুপ ডিরেক্টরর্সে যোগ দিয়েছেন৷ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পাঁচ ডিরেক্টরই৷

আলোচনা শেষে দেবাশিস জানান, ‘আগামী মরশুমের জন্য দেওয়া ২৫ জন ফুটবলারের তালিকা চূড়ান্ত থাকছে৷’ এর আগে দেবাশিস-সৃঞ্জয়দের বাছাই করা এই ২৫জন ফুটবলারের তালিকার চূড়ান্ত নয়, এদের মধ্যে কাদের রাখা হবে তা বিবেচনা করা হবে বলে অঞ্জন জানিয়েছিলেন৷ বাগানের পদত্যাগী অর্থসচিব দেবাশিস এদিন জানিয়ে রাখলেন তালিকার বাইরে গিয়ে কিছু ফুটবলার নেওয়া হতে পারে৷ তাঁরা আসবেন জুনিয়র ফুটবলার হিসেবে৷

বৈঠক শেষে বন্ধু অঞ্জনকে পাশে বসিয়ে টুটু বলেন,  ‘পরিবারের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে৷ ফুটবলকে মেরে ফেলে  কিছু করতে চাই না আমরা৷ মাথায় রাখতে হবে, ফুটবল ছাড়া কোম্পানির কোনও অস্তিস্ব নেই৷’তবে কোম্পানির প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে,সেটা ভবিষ্যতেই জানা যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি৷

দুই বন্ধুর মধ্যে তবে কি দূরত্ব ঘুছল, সেই নিয়ে দুই পক্ষই পরিষ্কার কিছু জানালেন না, অঞ্জন মিত্র শুধু বলেন, ‘সেটা সময়ই বলবে৷’

একই প্রশ্নে অঞ্জনের হাত টেনে নিয়ে টুটু পালটা বলেন  ‘আমরা দীর্ঘদিনের ভালো বন্ধু, বন্ধু হিসেবে আমরা এক থেকেছি, ভবিষ্যতেও এক থাকব৷’ পরমুহূর্তেই খোঁজা দিয়ে বন্ধুর হাত ছেড়ে দিয়ে টুটু জুড়ে দেন, ‘প্রশাসনিক ক্ষেত্রে  বন্ধুত্বের সম্পর্ক কেমন হবে, তা সময়ই বলবে!’

Advertisement
---