পুলিশের চাকরি পেতে চুলে ‘হেনা’ লাগিয়ে শ্রীঘরে যুবক

লখনউ: ছোট থেকে স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়ার। সেই উপলক্ষ্যে শুরু করেছিল অনুশীলন। নানা উপায়ে কসরত করে নিজেকে পুলিশ হওয়ার প্রায় উপযোগী করে ফেলেছিল অঙ্কিত কুমার।

কিন্তু ছোট একটা সমস্যা থেকেই গিয়েছিল। যা অনেক চেষ্টা করেও দূর করতে পারেনি উত্তর প্রদেশের মীরাটের বাসিন্দা অঙ্কিত। সেটা হল উচ্চতার সমস্যা। পুলিশ হওয়ার জন্য যে শারীরিক উচ্চতা দরকার তার থেকে এক সেন্টিমিটার কম ছিল তাঁর উচ্চতা।

এই প্রতিকূলতা কাটাতে অনেক চেষ্টা করেছিল অঙ্কিত। শুধু ঝুলে থাকা নয়। লম্বা হতে প্রায়সব ধরণের হেলথ ড্রিঙ্ক খেয়েছিল। তবুও কাজ হয়নি। লক্ষ্য থেকে এক সেন্টিমিটার দূরেই থামতে হয়েছিল তাঁকে।

পুলিশের চাকরি পাওয়ার জন্য অনেক ছোট থেকে লড়াই করেছে সে। অনেক দৌড়াদৌড়িও করেছে। মাত্র এক সেন্টিমিটারের জন্য থেমে যেতে হবে তা কল্পনা করলেই অসহ্য লাগত অঙ্কিতের। সেই কারণে লক্ষ্য পূরণে নয়া ফন্দি আঁটে সে। মাথার চুল বড় করে হেনা লাগিয়ে নেয়। যার ফলে লম্বা হয়ে থাকে মাথার চুল। দেখলে মনে হয় উচ্চতাও কিছুটা বেড়ে গিয়েছে। এই বর্ধিত উচ্চতা অঙ্কিতের পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য যথেষ্ট ছিল।

এরপরে নিয়ম মেনে পুলিশের চাকরির আবেদন করে অঙ্কিত কুমার। নিজের যোগ্যতায় প্রাথমিক স্তরের একাধিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়ে যায়। কখনই উচ্চতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সব ক্ষেত্রেই যথাযথ মর্যাদার সঙ্গেই নিজের দক্ষতা জাহির করেছিল সে।

এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার। সম্ভবত এই প্রবাদ মাথায় রেখেই উচ্চতায় জালিয়াতির পথে হেঁটেছিল। কিন্তু এটা যুদ্ধ বা প্রেম কিছুই ছিল না। এটা ছিল চাকরি। সেই কারণেই তাকে হারতে হল। ধরা পরে গেল সব জালিয়াতি। জালিয়াতি করা কারণে দায়ের হল মামলা।

পুলিশের চাকরির জন্য চূড়ান্ত শারীরিক পরীক্ষার সময় ধরা পরে যায় অঙ্কিতের যাবতীয় জালিয়াতি। এই বিষয়ে পুলিশের শারীরিক পরীক্ষা বিভাগের প্রধান সঞ্জীব বাজপায়ের জানিয়েছেন যে পুলিশের চাকরির জন্য কমপক্ষে ১৬৮ সেন্টিমিটার উচ্চতা দরকার হয়। তা মাপার জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় মেশিন রয়েছে। সেখানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত উচ্চতা যথাযথ ভাবে মাপা যায়। স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিন যন্ত্রে চুলের দৈর্ঘ্য ধরা পরে না।

আর সেখানেই থেমে যেতে হয় অঙ্কিত কুমারকে। শুধু তাই নয়। ফাঁস হয়ে যায় তার যাবতীয় জালিয়াতি। পুলিশের চাকরির জন্য জালিয়াতি করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। ৪২০ ধারায় তার নামে মামলা রুজু হয়েছে।

-------
----