নাগরিকত্ব সংশোধনী: প্রতিবাদের আগুনে রাতেই বিচ্ছিন্ন শৈলশহর শিলং

শিলং: শীতের মরশুমে যারা মেঘালয় ঘুরতে গিয়েছেন সেই পর্যটকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে৷ কারণ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬) -এর প্রতিবাদে ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করল মেঘালয়৷ একইভাবে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যগুলি, বিশেষ করে অসম ও ত্রিপুরা৷ রাতের খবর- শৈলশহর শিলংয়ের বিভিন্ন রাস্তায় নেমে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে৷ আপার শিলং বিচ্ছিন্ন৷

রাতের খবর, অসম থেকে মেঘালয় যাওয়ার রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে উপজাতি সংগঠনগুলি পথে নেমে আটকে দিচ্ছে গাড়ি৷ বৃহস্পতিবার সন্ধের পর থেকে মেঘালয়ের পরিস্থিতি সঙ্গিন হতে শুরু করেছে৷ আপার শিলং, ইস্ট খাসি হিলস, ওয়েস্ট জয়ন্তিয়া হিলসের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ জমাট হতে থাকায় উত্তর পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলির মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করেছে৷

শুক্রবার সকাল থেকে প্রতিবাদ আরও জোরদার হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ মেঘালয় সরকার বিক্ষোভকারীদের হটাতে কোনও ব্যবস্থা নেবেনা বলেই মনে করা হচ্ছে৷ কারণ সরকার নিজেই এই বিক্ষোভের শরিক৷ এর জেরে ভিন রাজ্যের পর্যটকরা বিশেষ করে বাঙালি টুরিস্টরা বিপদে পড়লেন৷

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি থেকে অ-মুসলিমরা এসে নাগরিকত্ব চাইলেই পেয়ে যাবেন। অসম সহ উত্তর পূর্ব ভারতের সব রাজ্যের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ তাতে চাগাড় দিয়েছে। তাদের দাবি, এতে করে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে কাতারে কাতারে হিন্দুরা চলে আসবেন। এতে বাড়বে জাতিগত সংঘাত।

মেঘালয় সরকারের অভিযোগ, এই বিল লাগু হলে উত্তর পূর্বের বিশেষ করে মেঘালয়ে প্রচুর বাংলাদেশি অ-মুসলিম আসতে থাকবে৷ এটি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না৷ জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে যেভাবে বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করা হয়েছে তার সমর্থন থাকলেও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল মেনে নেওয়া যায় না৷ বিল কার্যকর করা হলে সরকার ফেলে দেওয়া হবে৷ বিজেপির একার পক্ষে সরকার গড়ার ক্ষমতা না থাকায় মেঘালয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দোদুল্যমান৷ মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা কড়া হঁশিয়ারি দিয়েছেন৷ তাঁর নেতৃত্বে এনপিপি ও বিজেপির জোট সরকার চলছে এই রাজ্যে৷

উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন উপজাতি সংগঠন ও তাদের ছাত্র শাখাগুলির যৌথ মঞ্চ ‘নেসো’ (নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন) বিলটির প্রতিবাদে গত ৮ জানুয়ারি ১১ ঘণ্টার বনধ পালন করে৷ এতে অচল হয়েছিল উত্তর পূর্বাঞ্চল৷

মেঘালয়ের পাশাপাশি অসমেও প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে৷ ৮ জানুয়ারি নাগরিকত্ব সংশোধনীর প্রতিবাদে বনধে এর প্রভাব অসমে পড়ে ব্যাপক৷ ত্রিপুরাতে বিল বিরোধী বনধ সমর্থকদের উপর গুলি চালায় পুলিশ৷ তাতে ৬ জন জখম হয়েছেন৷ এর জেরে উত্তাল হয়েছে পরিস্থিতি৷ এই দিনেই ডাকা হয়েছিল ১২ দফা দাবির ভিত্তিতে বামপন্থী এবং কেন্দ্রীয় ট্রেডইউনিয়নগুলির মিলিত ৪৮ ঘণ্টা ভারত বনধ৷ তার প্রভাবও পড়ে৷ ৯ তারিখ সকাল থেকে বনধের পাশাপাশি বিল বিরোধী বিক্ষোভে আরও উত্তাল হয় অসম৷ বৃহস্পতিবার সেটি প্রবলতর হয়েছে৷ অসম জুড়ে অচলাবস্থা৷ জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা৷ সরকারকে হুমকি দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (স্বাধীনতা)৷

----