স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি : ‘এই রথ শেষ রথ৷ এই রথ বিজেপির মৃত্যুর রথ’৷ এমনই কটাক্ষ বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের৷ তিনি এদিন বলেন ‘পিছনে রথ, সামনে খোল কীর্ত্তন, মুখে বল হরি হরিবোল’৷

বিজেপির এই অকাল রথকে মৃত্যুরথ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি৷ বুধবার লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্লক ভিত্তিক প্রথম জনসভা শুরু করে তৃণমূল। সেখানে দাঁড়িয়ে অনুব্রত বললেন, ‘বিজেপির রথ দাঙ্গার রথ। এবং এটাই তাদের শেষ রথ। তাই রথের শ্মশানযাত্রার জন্য তৃণমূলের পক্ষে ৪ হাজার খোল এবং ৮ করতাল রথের আগে পিছনে থাকবে। তারাই বল হরি হরিবোল করে বাংলা ছাড়া করবে বিজেপিকে।’

প্রতিটি ব্লকে জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল জেলা কমিটি। বুধবার সিউড়ি দুই ব্লকের পুরন্দরপুরে বান্ধব সমিতির কানায় কানায় ভরতি মাঠ থেকেই যার সূচনা করল তৃণমূল। যে সভায় জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী,সাঁইথিয়া বিধায়ক নীলাবতী সাহা, ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম ছিলেন।

জন সমাগম দেখে নুরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান দলের জেলা সভাপতি। তার দাবি উপস্থিত ৮০ থেকে ৮৫ হাজার লোক যদি পাঁচশ করে ভোটে লিড দেয়, তাহলে সিউড়ি দুই ব্লক থেকেই ৪০ হাজার ভোটে লিড দিয়ে দিল্লি দখল করবে তৃণমুল।

বিজেপির প্রদেশ সভাপতি দিলীপ ঘোষ এদিন বোলপুরে দাঁড়িয়ে আগামী রথ যাত্রায় রথে শাবল গাঁইতি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন অনুব্রত মন্ডল বলেন, ‘এই রথ কিসের রথ। আমরা জানি আষাঢ় মাসে রথ হয়। সে রথ পবিত্র রথ। মা বোনেরা যে রথের দড়ি টানে। বিজেপির এই রথ দাঙ্গার রথ। না হলে তাতে শাবল গাইতি থাকবে কেন।’

উল্লেখ্য রাজ্যে যে চারটে রথ বের হবে তার মধ্যে একটি বের হবে তারাপীঠ থেকে। তাকে কেন্দ্র করেই জেলা জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। অনুব্রত মন্ডল রথযাত্রার আগে সেদিনই সে পথেই হরিনামের দল নামানোর ঘোষনা করেছেন। সেজন্য গ্রামে গ্রামে খোল করতাল বিলির ব্যবস্থাও করেছে তৃণমূল বলে খবর৷

আরও পড়ুন : ‘কেন্দ্র দখল করার অলীক স্বপ্ন দেখছেন মমতা’

জনসভা থেকে এদিন অনুব্রত দাবি করেন এ জেলায় রথের পথ আটকে দেবে মানুষ। পথে নামবে চার হাজার খোল আর আট হাজার করতাল। বীরভূমে বিজেপির পক্ষ থেকে সভা না করার অভিযোগ তোলা হয়। সে প্রসঙ্গে অনুব্রত মন্ডল বলেন, ‘লাভপুরে লোক নেই তাই সভা করতে পারেনি বিজেপি। বুধবার বোলপুরের রেল ময়দানে দেড়শো আড়াইশো লোক নিয়ে তো সভা করল দিলীপ ঘোষ।’

এর পরেই বিজেপি নেতাদের নাম না করে তাদের প্রতিবন্ধী বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘কে কোথাকার ল্যাংড়া খোঁড়া কি বলে গেল, আর জেলার মানুষ তা বিশ্বাস করবে। তাই কখনও হয় নাকি।’

--
----
--