স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: তাঁকে দেখলে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়৷ বিরোধীদের কথায় তিনি নাকি ত্রাস! সেই কঠিন, কঠোর অনুব্রতই মা তারার সামনে নতজানু৷ কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে রবিবার তারাপীঠে পুজো দিলেন বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল৷ সঙ্গে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী তথা তারাপীঠের উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়৷

রবিবার সকালে বেনারসি শাড়ি, সাত রকমের ফল, মিষ্টি, পুজোর যাবতীয় নৈবেদ্য, মায়ের চরণে ছোঁয়ানোর জন্য সিঁদুর, লাল জবা ফুলের মালা নিয়ে ডালি সাজিয়ে পুজো দেন অনুব্রত৷ জবার মালা হাতে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে ছিলেন বিগ্রহের দিকে৷ চোখেমুখে ভক্তির রেশ৷ কিন্তু তাতেও ভয় কাটছে না বিরোধীদের৷

এদিন নিজের হাতে মাকে বেনারসি শাড়ি নিবেদন করেন অনুব্রত মণ্ডল৷ পুজোর পর মায়ের যজ্ঞর সময় সেখানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি৷ যজ্ঞ শেষে মন্দিরে উপস্থিত দর্শনার্থীদের নিজের হাতে প্রসাদ বিলি করেন তৃণমূল জেলা সভাপতি৷

এদিন অনুব্রতবাবু জানান, ‘‘মায়ের কাছে তিনি দু’টি পুজো দিয়েছি৷ একটি নিজের ব্যক্তিগত পুজো৷ অন্যটি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে৷’’ তিনি মায়ের কাছে সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করেন বলেও জানিয়েছেন৷

পুরাণ মতে, ‘দেবী তারার’ অপর নাম ‘কৌশিকী’। এই ‘কৌশিকী’ রূপেই অমাবস্যা তিথিতে ‘শুম্ভ’ ‘নিশুম্ভ’-কে বধ করেছিলেন ‘দেবী তারা’৷ এমনকি এই তিথিতে অর্থাৎ এই অমাবস্যাতেই ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন। তারাপীঠ-কে তাই ‘সিদ্ধপীঠ’ও বলা হয়। তাই, এই তিথিতে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে তারাপীঠে। শনিবার কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠ চত্বরে ছিল পুলিশি নিরাপত্তার বেড়াজাল৷ রবিবারও ভিড় কোনও অংশে কম নয়৷ তাই, মন্দির থেকে রাস্তা সর্বত্রই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ৷

--
----
--