দেবযানী সরকার, কলকাতা: মা তারা অনুব্রত মণ্ডলের প্রার্থনা শুনেছেন৷ কাঁকড়তলার বিস্ফোরণ নিয়ে বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতিকে এভাবেই খোঁচা দিলেন কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ৷

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি আসনে ফোটাতে হবে ঘাসফুল৷ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশ পালন করতে এখন থেকেই কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা৷ নেত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে অনেকেই আবার মন্দির-মসজিদেও যাচ্ছেন৷ সদ্য মন্দিরে গিয়ে সেই প্রার্থনা করেছেন দিদির আস্থাভাজন ভাই কেষ্ট৷ রবিবার কৌশিকি অমাবস্যায় তারাপীঠে মা তারার পুজো দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পুজোর পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “২০১৯ লোকসভা ভোট। আমি মাকে বললাম, মা তুমি সব পারো। ৪২-এ ৪২ করে দাও। মা বলল, ৪২-এ ৪২ করে দেব।”

Advertisement

পরেই দিনই অর্থাৎ সোমবার সকালে অনুব্রতর জেলায় বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটে৷ কাঁকরতলা থানার বড়রা গ্রামে বোমা বিস্ফোরণে কার্যত ধুলিসাৎ হয়ে যায় তৃণমূলের অঞ্চল কার্যালয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল প্রায় দেড়শো মিটার দূরে থাকা স্কুলের মাটিও কেঁপে ওঠে। তীব্র বিস্ফোরণে শাসকদলের কার্যালয়ের দরজা, জানলা, ছাদের টিন বেশ কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়ে। ২০ইঞ্চি পাকা দেওয়ালও মাটির বাড়ির মতো ভেঙে পড়ে।

এই বিস্ফোরণের পরই অনুব্রতকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বীরভূমের হাঁসনের কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ৷ তিনি বলেন, “তৃণমূল নেতারা যেদিন মা তারারা কাছে ৪২শে ৪২ চাইলেন তার পরের দিন সকালেই তাঁরা মা তারার আশীর্বাদ পেলেন৷ মা তাঁদের এত বড় একটা বিস্ফোরণ উপহার দিলেন৷”

সেইসঙ্গে মিলটন বলেন, “এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক৷ বীরভূম জেলার নাম বিস্ফোরকভূমি হয়ে গিয়েছে৷ আমি মা তারার কাছে প্রার্থনা করছি বীরভূমকে সন্ত্রাসমুক্ত ও বিস্ফোরকমুক্ত করার৷ মা নিশ্চয়ই আমার প্রার্থনা শুনবেন৷”

----
--