ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য বর্ধমানে

স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: পলিটেকনিক কলেজের সদ্য পাশ করা ইঞ্জিনিয়ারিং এক ছাত্রকে খুন করার অভিযোগকে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয় বর্ধমানে। মৃত ছাত্রের নাম রাহুল মল্লিক (২৫)। বাড়ি বর্ধমান শহরের বাজেপ্রতাপপুর হরিনারায়ণপুর বিদ্যাসাগর কলোনীতে। মৃত ছাত্রের বাবা হাওড়ার পূর্ব রেলের লিলুয়া ওয়ার্কশপের কর্মী।

এই প্রসঙ্গে মৃতের কাকা দীনেশ মল্লিক বলেছেন, ‘‘বেশ কিছুদিন ধরেই পাড়ার কিছু বখাটে নেশাগ্রস্থ ছেলে রাহুলকে তাদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য বলছিল। কিন্তু তাতে রাজী হচ্ছিল না রাহুল। তা নিয়ে পাড়ার ওই ছেলেদের সঙ্গে তার বচসাও হয়।’’ দীনেশবাবুর অভিযোগ, ওই ছেলেরাই এজন্য রাহুলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।

তিনি জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যে প্রায় সাড়ে সাতটা নাগাদ রাহুলের কাছে একটি ফোন আসে। এরপরই সে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। পরে রাত প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ পাশের পাড়ার দুটি ছেলে এসে তাঁদের জানান, সাধনপুর বড় বুনিয়াদি স্কুলের কাছে রেল লাইন থেকে প্রায় ১২ ফুট দূরে রাহুলের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।

দীনেশবাবু জানিয়েছেন, রাহুলের মৃতদেহ উপুড় অবস্থায় পড়েছিল। হাত দুটি পিছনে মোড়া ছিল। শরীরে বেশ কিছু জায়গায় গাঢ় ক্ষত চিহ্ন ছিল। মৃতদেহের আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল রাহুলের মোবাইল ফোনের ভগ্নাংশও। তিনি আরো জানান, গত বছরই দুর্গাপুর পলিটেকনিক কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে রাহুল৷ তারপর থেকে চাকরির জন্য চেষ্টা করছিল। স্বাভাবিকভাবেই তার লক্ষ্য ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানো। তাই সে পাড়ার ওই সমস্ত বখাটে, নেশাগ্রস্থ ছেলেদের সঙ্গে মিশতে চাইত না।

তা নিয়েই পাড়ার ছেলেরা তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করছিল। এর জেরেই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাহুলকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাহলের কাকা। রাহলের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমেছে বর্ধমান থানার পুলিশ৷ এরই পাশাপাশি দীনেশবাবু জানিয়েছেন, রাহুলকে খুন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মোবাইলে একটি মেসেজ আসে। ওই মেসেজে বলা হয় – ‘জনৈক কার্তিককে ধরলেই সব জানা যাবে।’ কিন্তু তারপর থেকেই কার্তিক নামে সেই ব্যক্তি পলাতক বলে জানা গিয়েছে।

পরিবারের প্রাথমিক অনুমান, পরিকল্পিতভাবেই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাহুলকে খুন করা হয়েছে। এই ব্যাপারে দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে রাহুলের পরিবার। অন্যদিকে, বর্ধমান থানার পুলিশ জানিয়েছেন, একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। খুন নাকি অন্যকিছু তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে৷ একই সঙ্গে এই খুনের পিছনে অন্য কোনেও কারণ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

-------
----