ভাল বাসা রয়েছে আপনারই হাতে

ফ্ল্যাট অথবা নিজের কেনা জমিতে বাড়িই বানান না কেন দেখে বুঝে একটা পরিকল্পনা করে এগোতে হবে নইলে সেই জায়গাটাতেই থাকতে থাকতে হাঁফিয়ে উঠতে পারেন৷ ভাল বাসা করতে হলে এমন ভাবে জায়গা বরাদ্দ করুন যাতে স্বাভাবিক ভাবে নড়াচড়া করা যায়৷ আপনার ভাল বাসা নির্ভর করছে আপনারই উপর শুধু দরকার একটু পরিকল্পনা৷

সেক্ষেত্রে ফ্ল্যাটের বদলে নিজের বাড়ি নিজে বানালে অবশ্যই কিছু সুবিধে আছে ৷ যেমন পূর্ব দিক দিয়ে ভোরের আলো চাইবেন, দক্ষিণ দিকে বারান্দা পাবেন , যে -বারান্দা পেরিয়ে ঘরে ঢুকবে দখিণা -বাতাস৷ একেবারে ফিতে -মাপা সাইজের রান্নাঘর বা বাথরুম নয় বরং খেলিয়ে রান্না করা অথবা স্নান করার পর্যাপ্ত বন্দোবস্তও চাইলেই পাবেন৷ এমনকী বসার ঘর আর শোওয়ার ঘরের মাপও থাকবে নিজের পছন্দ মতো৷ কিন্ত্ত ফ্ল্যাট কিনলে সেটা অনেক সময় আপনার নিয়্ন্ত্রণে থাকে না ৷ সব কিছুর মাপ নির্দিষ্ট৷ তবে ফ্ল্যাটের মাপের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে৷ এখন ফ্লোর -এরিয়া যদি এক হাজার বর্গ ফুট হয় তাহলে ফ্ল্যাট হবে এক -রকম সেটা আবার ২৫০০ বর্গ ফুট হলে অবশ্যই অন্য রকম ৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, যাতে দমবন্ধ পরিবেশ না হয় তারজন্য বাড়িতে মাথা -পিছু ৪০০ বর্গ ফুট বরাদ্দ হওয়া দরকার৷ অতএব , যেখানে বাড়ির সদস্য সংখ্যা হল ৪ , সেখানে ১৬০০ বর্গফুট জায়গা দরকার তবে তা মানিয়ে নেওয়া যেত পারে  ১০০০-১২০০ বর্গফুটেও ৷home

এখন যদি এক তলা বাড়ি হলে দুটি অ্যাটাচড বাথরুম এবং কিচেন ছাড়া থাকতে পারে একটি মাস্টার বেডরুম (১২ ফুট ১ ইঞ্চি X ১১ ফুট ৭ ইঞ্চি ), দু’টি অপেক্ষাকৃত ছোট শোওয়ার ঘর (প্রতিটি ১০ ফুট ৬ ইঞ্চি X ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি ), ডাইনিং স্পেস জনা চারেকের জন্য (৭ ফুট ৭ ইঞ্চি X ১০ ফুট ৮ ইঞ্চি ) এবং একটি বেশ বড়সড় লিভিং রুম (১৭ ফুট ৪ ইঞ্চি X ১৩ ফুট ০ ইঞ্চি )৷ যা মোটামুটি ১০৫০ থেকে ১১০০ বর্গফুট এলাকায় কুলিয়ে যাবে আর সেই বাড়িতে হাত -পা ছড়িয়ে আরামেই থাকা সম্ভব হবে৷
আবার বাড়ির চারপাশে একটু খোলা জায়গা রেখে এই হাজার বর্গ ফুটকে জায়গাকেই চমৎকারভাবে ভাগ করতে পারা যাবে       দো ’তলা বাড়িতে ৷ তখন প্রতি তলায় ফ্লোর -এরিয়া ৫০০ বর্গফুট এর মতো ধরুন৷ এই পরিকল্পনায় নীচের তলায় রাখুন একটি শোওয়ার ঘর (৮ ফুট ৪ ইঞ্চি X ১১ ফুট ০ ইঞ্চি )এবং অ্যাটাচড বাথরুম (৪ ফুট X ৬ ফুট), রান্নাঘর (৮ ফুট ০ ইঞ্চি X ৮ ফুট ০ ইঞ্চি ), খাওয়ার জায়গা (১১ ফুট ০ ইঞ্চি X ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি ) এবং ড্রইংরুম (১০ ফুট ০ ইঞ্চি X ১০ ফুট ০ ইঞ্চি )৷ এই বাড়ির দো -তলায় থাকবে একটি শোওয়ার ঘর (৮ ফুট ৪ ইঞ্চি X ১১ ফুট ০ ইঞ্চি ) এবং অ্যাটাচড টয়লেট (৪ ফুট ০ ইঞ্চি X ৬ ফুট ০ ইঞ্চি ), দ্বিতীয় শোওয়ার ঘর (৮ ফুট ০ ইঞ্চি X ১১ ফুট ০ ইঞ্চি ), লিভিং রুম (১২ ফুট ০ ইঞ্চি X ১১ ফুট ৬ ইঞ্চি ), সঙ্গে একটি ব্যালকনি (৫ ফুট ০ ইঞ্চি X ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি)৷home2

এখন ফ্ল্যাটের সাইজ ১০০০ বর্গফুট হলে, সঠিক নক্সায় ফ্ল্যাট পছন্দ করতে হবে যেটা হবে সব দিক থেকে উপযুক্ত৷ এখন যদি আপনার বাড়িতে অতিথি -সমাগম লেগেই থাকে সেক্ষেত্রে এমন ফ্লোর -প্ল্যান পছন্দ করতে হবে যেখানে লিভিং -এরিয়াটা অপেক্ষাকৃত বড় হয়৷ এদিকে জীবন -যাপনের উপরেই নির্ভর করবে কিচেন এরিয়া এবং ডাইনিং স্পেস-এর মাপ৷ কারণ , অতিথি সমাগম লেগেই থাকলে এই দু’টি এলাকা অপেক্ষাকৃত বড় হতেই হবে৷ সে -রকম হলে ফ্লোর -এরিয়া সামান্য বেশির দিকে ঝুঁকে পড়তেই পারেন যদি পকেট অনুমতি দেয়৷ কারণ , কিচেন , ডাইনিং স্পেস এবং লিভিং এরিয়াই আপনার জীবনের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা৷তেমন হলে বেড রুমে একটু সমঝোতা করে নিতে হবে৷ এ -ছাড়াও ভেবে নিতে হবে যে -সব আসবাব রয়েছে , সেইসব রেখে দেওয়ার পর ফাঁকা স্পেস কতটা থাকছে৷ কারণ এই ফাঁকা জায়গাটাই হল ঘরে আসা লোকেদের নড়া -চড়া করার জায়গা৷ এটা কম হলে , অস্বস্তি বাড়বে মানে দমবন্ধ পরিবেশ আর কি৷ সে -ক্ষেত্রে কিছু পুরনো আসবাব বাতিল করে , নতুন ছোট মাপের আসবাব কেনার কথা ভাবতে হবে৷home3

ফ্ল্যাটের ফ্লোর -প্ল্যান দেখার সময় স্বামী -স্ত্রী উভয়ের এক সঙ্গে থাকাটা জরুরি৷ স্টোরেজ স্পেস সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে মহিলারা পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ বলে ধরা হয়৷ তাই যৌথ সিদ্ধান্ত দরকার বাড়ি সাজাতে৷ বাচ্চা থাকলে বাড়ি হলে সিঁড়ি এবং ফ্ল্যাচের ক্ষেত্রে ব্যালকনির ডিজাইন দেখে নিতে হবে৷ এই দু’টো জায়গায় সুরক্ষার ব্যাপারটা অনেকেই নজর এড়িয়ে যায় সেদিকটাও মাথায় রাখতে হবে৷

Advertisement
---
-----