ব্যারাকপুর: এতদিন পর্যন্ত ভাটপাড়া সহ ব্যারাকপুর চত্বরে বিরোধীদের নেতা কর্মীরা মার খেলে নাম জড়াত অর্জুন সিং কিংবা তার সমর্থকদের৷ শাসক দলের প্রাক্তন এই বিধায়ক এক প্রকার সমান্তরাল শাসন চালাতেন এই অঞ্চলে৷ এমনটাই অভিযোগ ছিল বিরোধীদের৷ শাসক দলের ছাতা মাথার উপর থেকে সরার পরই ব্যারাকপুরের এই দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতার সমর্থকদের বাড়িতে হামলা শুরু হয়েছে৷

সপ্তদশ লোকসকভায় ব্যারাকপুর থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন অর্জুন সিং৷ কিন্তু আগেরবারের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর উপরই ভরসা রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ টিকিট না পাওয়াতে সদ্য দল বদল করে বিজেপিতে গেছেন একসময়ের ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন৷ এবং তারপরই যার নামে ব্যারাকপুর অঞ্চলে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খেত সেই অর্জুন সিংয়ের কর্মীদের উপর হামলা শুরু হয়েছে৷ সমর্থকদের অভিযোগ শাসক দলের মদতেই এই হামলা৷ যদিও তৃণমূলের তরফে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কথা বলা হয়েছে৷ খোদ অর্জুন সিং-য়ের তরফে এখনও কোনও বক্তব্য সামনে আসেনি৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এভাবেই ব্যারাকপুর লোকসভার ভোট প্রস্তুতি শুর হল৷

অর্জুন সিং-এর বিজেপি যোগের বিষয় স্পষ্ট হতেই বিজেপির নিচুতলার অনেক নেতাকর্মী অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, ‘যার বিরুদ্ধে এতদিন আন্দোলন করা হল তাঁকেই এখন দলের নেতা হিসেবে মানতে হবে?’ যদিও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে নীতি নয়, জয়কেই লক্ষ্য করে নিতে হবে।

সর্বভারতীয় সভাপতির কথা মান্য করে অর্জুন সিং-কে দলে স্বাগত জানিয়েছেন বারাকপুরের বিজেপি নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে যে সকল বিজেপি নেতা এক সময়ে অর্জুন বাহিণির কাছে আক্রান্ত হয়েছিল তাঁরাও এখন দাপুটে নেতাকে দলে স্বাগত জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, বারাকপুর লোকসভা আসনে পদ্মের জয়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলেই বিবাদ ভুলেছে বিজেপির আদি নেতারা।