অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা প্রণয়ীর গর্ভপাত করিয়েছিলেন সৌম্যজিত

স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: মহম্মদ শামির বিরুদ্ধে আনা হাসিন জাহানের অভিযোগের পরতে পরতে যেমন ক্রীড়ামহলের জন্য অবিশ্বাস ও চমকের উপকরণ ছিল, ঠিক সেরকমই টেবিল টেনিস তারকা সৌম্যজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগও অবাক করছে বাংলার ক্রীড়াপ্রেমীদের৷ বারাসত মহিলা থানায় স্থানীয় এক তরুণীর সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার পর বিয়ে করতে না চাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন, যা ধর্ষণের সমান৷ জাতীয় টিটি তারকার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য৷

দীর্ঘদিন প্রণয়ের সূত্রে আবদ্ধ থাকা ওই তরুণীর সঙ্গে সৌম্যজিতের বাগদান সারা হয়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে৷ এমন কি, নাবালিকা অবস্থাতেই একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন মেয়েটি৷

আরও পড়ুন: ধর্ষণের অভিযোগ বাংলার অর্জুন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে

- Advertisement -

তরুণীর বাবা জানিয়েছেন, ‘২০১৬ শিলিগুড়ির গাজলডোবার এক মন্দিরে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সৌম্যজিৎ ও ওই তরুণীর বাগদান পর্ব সারা হয়৷ বিয়েও হয়ে যেত এতদিনে৷ তবে মেয়ে নাবালিকা হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি৷’

২০১৫ টেবিল টেনিস তারকার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয় বারাসতের ওই তরুণীর৷ সৌম্যজিতের মতোই মেয়েটিও ছোটোবেলা থেকে টেবিল টেনিস খেলতেন৷ সেই সূত্রেই শিলিগুড়ির টিটি তারকার সঙ্গে ঘণিষ্ঠতা বাড়ে তাঁর৷ শিলিগুড়িতে বাড়ি হলেও কলকাতার বাঘাযতিনের ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল অর্জুন পুরস্কার প্রাপ্ত টিটি তারকার৷

তরুণীর পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিজের ফ্ল্যাটেই বারাসতের কাঠগোলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে সৌম্যজিৎ একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপণ করেন৷ নাবালিকা অবস্থাতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সৌম্যজিৎ ও তাঁর পরিবারের লোকজন তরুণীর গর্ভপাত করায়৷ এই অবস্থায় সৌম্যজিৎ বিয়ে করতে অস্বীকার করায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়৷

শুধু অলিম্পিয়ান টিটি তারকার বিরুদ্ধেই নয়, তাঁর পরিবারের চার জন সদস্যের বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে৷ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পকসো আইনে সৌম্যজিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে৷

সৌম্যজিৎ অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তাঁর কেরিয়ার শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে জানিয়েছেন টেবিল টেনিস তারকা৷

Advertisement ---
---
-----