আদালতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আরমান

মুন্বই: তাঁর কর্মকান্ডে তিনি অনুতুপ্ত৷ মহামান্য আদালতের সামনে নিজের ব্যবহার নিয়ে লজ্জিত বলে জানালেন টেলি অভিনেতা আরমান কোহলি৷ মঙ্গলবার এই টেলিতারকাকে লোনাওয়লা অঞ্চল থেকে গ্রেফতার করার পর শুক্রবার তাঁকে হাইকোর্টে তোলা হয়৷ বিচারপতি আর.এম সাবান্ত এবং রেবতী মোহিতের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার প্রথম শুনানী শুরু হয়৷

মামলা শুরু হতেই অভিযুক্ত অভিনেতার আইনজীবি একটি হলফনামা পেশ করেন৷ হলফনামায় আরমান জানান, “আমি নীরু রানধাওয়ার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার জন্য সত্যিই লজ্জিত৷ ওর সঙ্গে যা হয়েছে তাঁর দায় আমিই স্বীকার করছি৷ ভবিষ্যতে এরকম খারাপ আচরণ যাতে হবে না বলে কথা দিচ্ছি৷ আমি নীরুর কাছে বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চাইছি৷” শুধু লিখিতভাবেই নয়, বিচারপতির সামনেও অভিনেতা নিজের ব্যবহার নিয়ে লজ্জিত তা জানান৷ পাশাপাশি অভিনেতা আর্জি করেন যাতে তিনি নীরুর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করার সুযোগ আদালত দেন৷

আরও পড়ুন: ওয়াইনের সঙ্গে তুলনা করে ‘স্মৃতি’চারণায় বিপত্তি

- Advertisement -

যদিও এটাই প্রথমবার নয়, অতীতে বহুবার নীরুর গায়ে হাত তুলেছেন আরমান৷ তবে কোনবারই পুলিশের দারস্থ হননি তিনি৷ কিন্তু এবার তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে৷ প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে আরমানের সঙ্গে লিভ-ইন-রিলেশনে রয়েছেন নীরু রানধাওয়া৷ তিনি জানিয়েছেন, এর আগেও আরমান তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করেছে৷ চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মেরে তাঁর নাক ফাটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ৷ আরমানের এই ব্যবহারের জন্য তাঁর সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দুবাই চলে যান নীরু৷ সেখানে নতুন করে জীবন শুরু করেন৷ কিন্তু আরমান তাঁকে বারবার তাঁর জীবনে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করতে থাকে৷ এমনকী সে নিজেকে বদলে ফেলার প্রতিশ্রুতি দেয়৷ তখন পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের কেরিয়ার ছেড়ে দিয়ে আবার ভারতে ফিরে আসেন নীরু৷ কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কত বড় ভুল ছিল তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন৷

আরও পড়ুন: ফুটবল উত্তেজনায় ফুটছে সিনেপাড়া

সম্প্রতি ঝামেলার সূত্রপাত হয় টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে৷ নীরু মিডিয়াকে সাক্ষাৎকারে জানান, “আরমানের একটি ভিলা আছে গোয়াতে৷ সেটি খালি পড়ে থাকে৷ মাঝে মাঝে ভাড়া দেওয়া হয়৷ ওই ভিলাটি এক ক্লায়েন্ট ভাড়া নেন৷ এবং ভিলার স্টাফকে ভাড়ার টাকাও দেন৷ আরমান আমাকে টাকার কথা জিজ্ঞাসা করতেই আমি স্টাফকে টাকা ট্রান্সফারের কথা বলি৷ তখনই কোনও কারণ ছাড়াই আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে৷ কিছু বোঝার আগেই আমার চুলের মুঠি ধরে মারতে শুরু করে৷ টেনে হিচড়ে দেওয়ালে নিয়ে গিয়ে মাথা ঠুকে দেয়৷’’ ঘটনাটির পর গুরুতর আহত অবস্থায় নীরুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল নীরু৷ সেখানে তাঁর অপারেশনও হয়৷ আপতত তিনি সুস্থ৷

Advertisement ---
---
-----