‘টাকার অভাবে থমকে যেতে পারে আর্মির Make In India প্রজেক্ট’

নয়াদিল্লি: প্রতিনিয়ত পাকিস্তানের চাপ তো আছে। তার মধ্যে আবার ক্রমশ আগ্রাসী হচ্ছে চিন। আর এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও অস্ত্রের উন্নতি খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু সেই পথে নাকি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে মোদী সরকারের ডিফেন্স বাজেট। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর যেখানে বারবার সেনাবাহিনী ও অস্ত্র চুক্তির উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানে এরকম একটা অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই যথেষ্ট আশঙ্কার। আর এই অভিযোগ এনেছেন খোদ সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ।

২০১৮-১৯-এ প্রতিরক্ষা খাতে যা বরাদ্দ করা হয়েছে, তা নাকি যথেষ্ট নয় বলেই উল্লেখ করেছেন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল শরত চাঁদ। সেই বরাদ্দের অভাবে নাকি অনেক ক্ষেত্রেই আটকে যাচ্ছে অস্ত্রের আধুনিকীকরণ।

প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংসদীয় প্যানেলে লেফট্যানেন্ট জেনারেল শরত চাঁদ বলেন, অপর্যাপ্ত টাকার কারণে থমকে যেতে পারে একাধিক ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রজেক্ট। তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আধুনিকীকরণের জন্য মোট ২১,৩৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ১২৫টা চলতি প্রকল্প, জরুরি প্রয়োজনে আনা জিনিসপত্র ও অন্যান্য চাহিদা পূরণে মোট ২৯,০৩৩ কোটি টাকা প্রয়োজন। তাই প্রতিরক্ষা বরাদ্দ যথেষ্ট নয়।’ এবছরের বাজেটে সেনাবাহিনী আশাহত বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

- Advertisement -

বাজেট সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু উদ্বেগের বিষয়ও তুলে ধরেন ভাইস চিফ। কমব্যাট ভেইকল সহ বেশ কিছু যুদ্ধযানের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, ‘আর্মি বাজেটের ৬৩ শতাংশ খরচ হয় বেতনের জন্য আর ১৪ শতাংশ আধুনিকীকরণের জন্য। কিন্তু আধুনিকীকরণের জন্য অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রয়োজন হয়।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনার ৬৮ শতাংশ অস্ত্রই অকেজো, মাত্র ৮ শতাংশ কার্যকরী।

প্রতিরক্ষা বাজেটে পরিকল্পনা খাতে সার্বিক ঘাটতি রয়েছে ১২,২৯৬ কোটির। প্রতিক্রিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল বিসি খান্দুরির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড় ঘাটতি রয়েছে। সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে ১৭,৭৫৬.৯২ কোটি, নৌসেনার ক্ষেত্রে ১৫,৬৯১.৭০ কোটি, জয়েন্ট স্টাফের ১,৩৯২ কোটি ও এয়ার ফোর্সের ৪১,৯২৪.৫৭ কোটির ঘাটতি রয়েছে।

Advertisement
---