রিভলভার ঠেকিয়ে হাতকাটা দিলীপ বলল, ‘বল কত দিবি …’

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অনেক দিন তার নাম শোনা যায়নি৷ বেশ শান্তিতেই ছিলেন, লেকটাউন, বাঙ্গুর, নাগেরবাজার, দমদমের মানুষ৷ তবে ইদানিং সেই ভুল ভাঙছিল৷ মাটি ফুঁড়ে যেন উঠে এলো বাম আমলে উত্তর শহরতলীর ত্রাস হাতকাটা দিলীপ৷ তবে ভালো খবর এই যে, পুলিশ রবিবার রাতে দিলীপকে গ্রেফতার করেছে৷

ত্রিনাথ দাস নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তি পুলিশ দিলীপকে করে৷ অভিযোগ অনুযায়ী, ত্রিনাথবাবু এবং তার বন্ধুরা কালিন্দির ত্রিবেণী অ্যাপার্টমেন্টে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছিলেন৷ সেই সময় দিলীপ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি বাহিনী নিয়ে সেখান যান৷ ত্রিনাথের কপালে রিভলভার ঠেকিয়ে দিলীপ বলল, ‘‘বল কত দিবি …৷’’

পড়ুন: সীমান্তের কাছেই উদ্ধার দেশে তৈরি বোমা

- Advertisement -

ঘটনাস্থল থেকে কোনওরকমে পালিয়ে বাঁচেন ত্রিনাথ৷ কয়েকদিন পরেই লেকটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি৷ গ্রেফতার হয় দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে হাতকাটা দিলীপ৷ বিধাননগরের অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্ট তাকে তিন দিনের পুলিশ হেপাজতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে৷ তদন্তকারীরা ওই তিনদিন জেরা করে জানতে পারবেন, কুখ্যাত ওই দুষ্কৃতি এত বছর বাদে কীভাবে আবার এলাকায় তোলাবাজি করতে চলে এলো৷ আপাতত, খুব বেশি মুখ খুলছে না পুলিশ৷

কে এই হাতকাটা দিলীপ?

১. আসল নাম দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বাম আমলে রাজ্যের এক মন্ত্রীর আশ্রয়ে রাজত্ব করতেন বলে শোনা যায়৷ বোমার জখমে বাঁ-হাতের কবজি উড়ে যায়৷ তবে অন্যহাত দিয়ে গুলি চালাতে কখনই হাত কাঁপেনি তার৷

২. ২০১২ সালে কলকাতা হাইকোর্ট মুক্তি দেয় দিলীপকে৷ অভিযোগ ছিল মারাত্মক৷ বিধাননগরের নয়াপট্টিতে ‘ডাবল-মার্ডার’৷ তবে মুক্তির কিছুদিন পরেই রাজারহাটের দশদ্রোনো এক সিকিউরিটি গার্ডকে খুনের ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে পড়ে৷

৩. জানা যায়, দিলীপকে নাকি লুকিয়ে ফেলেন শাসক দলের এক এমএলএ৷

পড়ুন: বামদের মিছিলে স্লোগান উঠল ‘মোদীর বড় সমর্থক মমতা’

৪. নব্বইয়ের দশকে দিলীপের উত্থান৷ গুরু পিনাকীর গ্যাংয়ে হাত পাকিয়েছন৷ কিন্তু পরে শুরু করলেন নিজের গ্যাং৷ তবে নয়াপট্টির ডাবল-মার্ডারের পর সিপিএমের সঙ্গে দিলীপের যুগলবন্দী প্রকাশ্যে এসে যায়৷

৫. ২০১২ সালেই ভিআইপি রোডের ধারে এক বার-সিঙ্গারকে বন্দুক দেখিয়ে অপহরণের চেষ্টা করে দিলীপের সঙ্গীরা৷ সেই সময়, তৃণমূলের এক যুব নেতা ওই ঘটনার পর দিলীপকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে৷ হাতকাটা দিলীপ গ্যাংয়ের সঙ্গে ওই নেতার রেষারেষি শুরু হয়৷

দিলীপ অবশ্য দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন৷ তবে এখন আপাতত পুলিশের জিম্মায়৷

Advertisement ---
---
-----