ইন্দিরা গান্ধীকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা মোদীর মন্ত্রীর

নয়াদিল্লি: এবার ইন্দিরা গান্ধীকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে মোদী সরকারের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি৷ ১৯৭৫ সালে ভারতে এমারজেন্সী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোমবার ‘ইন্দিরা-হিটলার’ বিতর্কে জড়ালেন অরূণ জেটলি।

ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা এমারজেন্সীর এবার ৪৩ তম বর্ষপূর্তী। আর এই উপলক্ষ্যেই বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী অরূণ জেটলি বলেন, ‘ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর তুলনা করা যেতে পারে জার্মানীর স্বৈরাচারী প্রধান অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে’।

জেটলি বলেন, ইন্দিরার জারি করা এমারজেন্সী গণতন্ত্রকে সাংবিধানিক স্বৈরচারীতায় পরিবর্তিত করে দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ইন্দিরা নিয়মনীতির পরিবর্তে নিজের মতকেই বিশেষ প্রাধ্যান্য দিতেন।

- Advertisement -

জেটলি বলেন, ইন্দিরা ও হিটলার দুজনেরই এক্ষেত্রে মিল আছে। দুজনেই গণতন্ত্রকে স্বৈরাচারে পরিবর্তিত করেছিলেন। দুজনেই গণতন্ত্র মানতেন না, স্বৈরাচারে বিশ্বাস করতেন। তিনি আরও বলেন হিটলার ও ইন্দিরা দুজনেই সংবিধান মানতেন না, সংবিধানের অপপ্রয়োগ করেছিলেন।

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন, গোটা ভারতে এমারজেন্সী ঘোষণা করেছিলেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার করে জেলে পুরেছিলেন তিনি। ২১ শে মার্চ ১৯৭৭ পর্যন্ত এই এমারজেন্সী লাগু ছিল। চরম বিরোধীতা সত্ত্বেও ইন্দিরা নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। সংবিধানের কোন কিছুকেই পাত্তা দেন নি তিনি। কারোর পরামর্শই শোনেন নি তিনি।

অরুণ জেটলি বলেন, ‘আর্টিক্যাল ৩৫২ অনুসারে গোটা দেশে এমারজেন্সী জারি করেন ইন্দিরা গান্ধী। আর্টিক্যাল ৩৫৯ অনুযায়ী সাধারণ মানুষের সমস্ত মৌলিক অধিকার বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। আর দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য বিরোধীদেরই দায়ী করা হয়’। ঠিক জার্মান স্বৈরাচারী শাসক হিটলারের মতই।

হিটলার জার্মান চ্যান্সেলার হন ১৯৩৩ সালের ৩০ শে জানুয়ারী। তিনিও আর্টিক্যাল ৪৮ জারি করে দেশে এমারজেন্সী জারি করেন। সেই সঙ্গে মানুষের সমস্ত মৌলিক অধিকারও খর্ব করেন। হিটলার দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য কমিউনিস্ট চক্রান্তের অভিযোগ করেন। জার্মান পার্লামেন্ট হাউস জ্বালিয়ে দেবার জন্যও কমিউনিস্টদের দায়ী করা হয়।

পরবর্তীকালে দেখা যায়, এই অরাজকতা ও অগ্নিকান্ডের জন্য হিটলারের নাজি বাহিনীই দায়ী। হিটলারের বিশ্বস্ত সঙ্গী গোয়েবেলস, পরে একথা স্বীকারও করে নেন। আর এখানেই ইন্দিরার সঙ্গে হিটলারের তুলনা করেছেন অরূণ জেটলি। তিনি বলেন, হিটলার ও ইন্দিরা দুজনেই নিজেদের ক্ষমতা দেখাতে ও সেই ক্ষমতা ধরে রাখতে এমারজেন্সীর আশ্রয় নিয়েছিলেন।

অরূণ জেটলি বলেন, হিটলার এমারজেন্সী জারি করে সমস্ত বিরোধী পার্লামেন্ট সদস্যকে গ্রেফতার করেছিলেন। আর ইন্দিরা গান্ধীও সেই একইভাবে এমারজেন্সী জারি করে সমস্ত বিরোধী পার্লামেন্ট সদস্য ও বিরোধী নেতাদের জেলে পুরেছিলেন। আর দুজনেই বিরোধীদের জেলে পাঠিয়ে সংসদে নিজের অন্যায় মত, সংবিধান সংশোধন সংখ্যাধিক্যের জেরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বিভিন্ন কাজের জন্য দুজনের প্রচুর মিল পাওয়াতেই ইন্দিরা গান্ধীকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। আর এখানেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। কংগ্রেসের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। আগামী ১৮ ই জুলাই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তখন এই ‘ইন্দিরা-হিটলার’ বিতর্কে ফের একবার উত্তপ্ত হতে চলেছে সংসদ, তা এখন থেকেই বলা যায়।

Advertisement ---
---
-----