প্রত্যাশিতভাবেই এনআরসি ইস্যুতে বিজেপির পাশে দাঁড়াল এবিভিপি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অসমের সাধারণ নাগরিকপঞ্জীর সর্বশেষ তালিকায় নাম বাদ পড়েছে ৪০ লক্ষ মানুষের৷ এই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয় অসমে৷ প্রতিবাদে সোচ্চার হয় বিজেপি বাদে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই৷ কিন্তু, প্রত্যাশিতভাবেই এনআরসি ইস্যুতে বিজেপির পাশে দাঁড়াল আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)৷ সমর্থন জানিয়ে ‘বেআইনী অভিবাসী সমস্যার সমাধানে অসমের সাধারণ নাগরিকপঞ্জী প্রকাশকে স্বাগত জানাচ্ছে এবিভিপি’ শীর্ষক একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন এবিভিপির সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আশীস চৌহান৷

এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্ভুল, বিস্তারিত এবং কঠোর প্রক্রিয়ার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে অসমের নাগরিকপঞ্জী প্রকাশ করা হয়েছে৷ তার জন্য অসম সরকার, এনআরসি আধিকারিকদের ও নরেন্দ্র মোদী সরকারের দৃঢ় প্রচেষ্টাকে স্বাগত ও সমর্থন জানাচ্ছে এবিভিপি৷ এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে ৪০ লক্ষের নাম বাদ যাওয়া অসমের বেআইনি অভিবাসী সমস্যারই প্রতিফলন বলে মনে করছে এই ছাত্র সংগঠনটি৷ তাদের মতে, সর্বশেষ প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জীটি অসমের অভিবাসী সমস্যার গুরুত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে৷ এই সমস্যায় ভুক্তভোগী অসমের জনগণের কষ্ট, যন্ত্রণার প্রতিফলন তুলে ধরেছে তালিকাটি৷

- Advertisement -

এবিভিপির দাবি, যেহেতু তালিকায় নাম না থাকলে উপযুক্ত নথিপত্র জমা করে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তাই আইনীভাবে যোগ্য কেউ নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হবেন না৷ একই ভাবে, এনআরসি তালিকায় কোনও নাম ভুল করে উঠে গিয়েছে এমন অভিযোগ থাকলে সেটাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করা যাবে৷ ফলে, এনআরসি তালিকা থেকে যোগ্য কেউ বঞ্চিত হবে না ও অযোগ্য কেউ স্থান পাবে না বলেই দাবি আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠনটির৷ পাশাপাশি, এনআরসির মতো কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত বহু বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল, ২০১৬-এর প্রতিও সমর্থণ জানানো হয়েছে এভিবিপির তরফ থেকে৷ তাদের মতে, এই বিলটি পাশ হয়ে গেলে তা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সম্পদায়ের অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেবে৷

বাংলাদেশ থেকে আগত বেআইনী অভিবাসীদের বাহ্যিক আক্রমণের গুরুত্ব সম্পর্কে দেশবাসীকে সচেতন করতে বহু প্রচারমূলক কাজকর্মের উদ্যোগ নিয়েছে এবিভিপি৷ বেআইনী অভিবাসীদের জন্য এভিবিপির নীতি হল ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’৷ অর্থাৎ, বেআইনী অভিবাসীদের প্রথমে চিহ্নিত করে তাদের বাতিলের তালিকায় ফেলতে হবে৷ তার পর তাদের নির্বাসন করে দিতে হবে৷

একদিকে অসম সরকার, বিজেপি সরকার ও নাগরিকপঞ্জীর অধিকারিকদের সমর্থণ ও অন্যদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবিভিপি৷ সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতে, রাজনৈতিক দলগুলি ভোট ব্যাংক নীতি অবলম্বন করে বেআইনী অভিবাসীদের সমর্থণ করছে৷ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলি যেভাবে সংকীর্ণ ভোট-ব্যাংক নীতি অবলম্বন করে নাগরিকপঞ্জীর বিরোধিতা করছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, বিপদজনক এবং ভারতের একতা এবং সততার বিরুদ্ধে৷ তাই রাজনৈতিক দলগুলিকে ভোট-ব্যাংকের কথা না ভেবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নাগরিকপঞ্জী তৈরি করতে এবং তার প্রয়োগে অসম সরকারকে সমর্থণ জানানোর দাবি তুলেছে এবিভিপি৷

আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন যে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারকেই সমর্থণ করবে সেটাই প্রত্যাশিত৷ আর প্রত্যাশিতভাবেই এর বিরোধিতা করছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলিও৷ কংগ্রেসের আমলে হাতেখড়ি নাগরিকপঞ্জীর সমর্থণ করলেও যেভাবে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে তার তীব্র বিরোধিতা জানাচ্ছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন৷ ছাত্র পরিষদের কলকাতা জেলা সভাপতি অর্ঘ্য গণ বলেন, ‘‘প্রথমত, তরুণ গগৈয়ের আমলেই এই নাগরিকপঞ্জী তৈরি হয়েছিল৷ এটা সম্পূর্ণভাবেই কংগ্রেসের কৃতিত্ব৷ কিন্তু, পরবর্তীকালে বিজেপি সরকার যে তালিকা প্রকাশ করেছে তা সঠিক নয়৷ শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নাগরিকপঞ্জীতে প্রচুর নাম রয়েছে যাদের নাম থাকার কথা নয়৷ প্রকৃতপক্ষে অসমের বুকে তরুণ গগৈয়ের নেতৃত্বে এটা কংগ্রেসের অবদান৷’’

অর্ঘ্য গণ আরও বলেন,‘‘কংগ্রেসের আমলে যাদের নাম তালিকায় থাকবে না তাদের জন্যও বিকল্প ভাবনাচিন্তা করা হয়েছিল৷ কিন্তু, বর্তমান তালিকায় যাদের নাম উঠেনি তাদের জন্য কোনও বিকল্প পরিকল্পনা করেনি বিজেপি সরকার৷ তাই কংগ্রেস এই নাগরিকপঞ্জীর তীব্র বিরোধিতা করছে৷’’ বিরোধিতা জানাচ্ছে বাম ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়াও (এসএফআই)৷ এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষপাতি৷ তাই আমাদের দাবি, নাগরিকপঞ্জী থেকে বাতিল ৪০ লক্ষ মানুষকে তালিকাভুক্ত করতে হবে৷’’

তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের সহ সভাপতি এ বিষয়ে মনিশঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘‘এনআরসির মাধ্যমে যে ৪০ লক্ষ মানুষকে যে দেশছাড়া করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করছি৷ দেশের সীমান্ত সামলানোর দায়িত্বে ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের৷ তাহলে এনআরসি তালিকা থেকে বাতিল ৪০ লক্ষ মানুষ যদি অনুপ্রবেশকারীই হয়ে থাকে তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ব্যর্থ৷ সেটা বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মেনে নিক৷ যদি মানতে পারে তাহলে ৪০ লক্ষ মানুষকে যেখানেই পাঠাবে তা আমরা সমর্থণ করব৷ আর যদি স্বীকার না করতে পারে তাহলে ৪০ লক্ষ মানুষের একজনকেও আমরা দেশছাড়া হতে দেব না৷’’ তার জন্য আগামীদিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে জানিয়েছেন মনিশঙ্কর মণ্ডল৷

Advertisement ---
---
-----