কেন্দ্রের ‘অযৌক্তিক’ বিল রুখে দিতে পথে নামছে দুর্বার

ফাইল ছবি

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: মানব পাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিল পেশ হতে চলেছে সংসদে৷ কিন্তু, এই বিলটি ‘অযৌক্তিক’৷ এমনই কারণে, এই বিল রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে এ বার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে পথে নামছে দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি৷

তবে, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের যৌনকর্মীদের এই সংগঠনও নয়৷ যৌথ আন্দোলনের এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের যৌনকর্মীদের সংগঠনও শামিল হয়েছে৷ সম্প্রতি, দিল্লিতে এক বৈঠকে আন্দোলনের এমনই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে৷ আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে এই বৈঠকের আয়োজন হয়৷

এই বৈঠকে অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক অফ সেক্স ওয়ার্কার্স-এর অধীনে বিভিন্ন রাজ্যের যৌনকর্মীদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ পরিযায়ী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংগঠিত শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনও অংশগ্রহণ করে এই বৈঠকে৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা, ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘মানব পাচার প্রতিরোধের লক্ষ্যে সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন একটি বিল পেশ করতে চলেছে নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক৷’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু, এই বিলটি অযৌক্তিক৷ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা না বলে এই বিল তৈরি করা হয়েছে৷ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, ট্রান্সজেন্ডার এবং সেক্স ওয়ার্কারদের সংগঠনের সঙ্গে এই বিল তৈরির জন্য আলোচনা করা হয়নি৷ এই বিলের উপর মতামত গ্রহণ করা হয়নি৷’’ শুধুমাত্র এমনও নয়৷ ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘কাচা কাজের মতো মানব পাচার (প্রতিরোধ, উদ্ধার, পুনর্বাসন) বিল, ২০১৮ তৈরি করা হয়েছে৷ এই বিল আইনে পরিণত হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়বে৷ মানব পাচার প্রতিরোধের কাজেও ব্যাঘাত ঘটবে৷’’

তা হলে, উপায়? এই বিলটি যাতে সংসদে পেশ হতে না পারে, তার জন্য সংসদের সদস্যদের বোঝানো হবে৷ এই বিলের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে৷ দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‘এই বিল রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে৷ অযৌক্তিক এই বিলটি সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানো হোক৷ সকলের সঙ্গে কথা বলে এই বিলটি ফের বিবেচনা করা হোক৷’’

কিন্তু, এই বিলটিকে কেন অযৌক্তিক বলা হচ্ছে? গত ২২ জুন দিল্লির ওই বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে৷ ডাক্তার স্মরজিৎ জানা বলেন, ‘‘বিভিন্ন কারণে এই বিলটি অযৌক্তিক৷ যেমন, বাসে করে যাওয়ার সময় মানব পাচারের সন্দেহে আটক করা হল৷ এ ক্ষেত্রে বাসটিকেও আটক করা হবে৷ এই ধরনের কারণে অপরিচিত কাউকে বাসে নাও উঠতে দেওয়া হতে পারে৷ এর ফলে, যাঁরা বাসে চেপে দূরের কোনও কর্মস্থলে যান, তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়বেন৷ এ দিকে, যাঁদের উদ্ধার করা হল, তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি যে ব্যবস্থা রয়েছে, তাও কারাগারের মতো৷’’

Advertisement
----
-----