সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : মাঝেরহাট কাণ্ডের জন্য মেট্রোর পাশাপাশি বিশাল ওজনের ট্রাকের দিকেও আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠিক কোন ট্রাক গুলির উপর তিনি আঙুল তুলছেন? কেনই বা তাঁর এমন যুক্তি তা আম জনতার জানা সম্ভব নয়। সম্পূর্ণ তথ্য দিলেই পরিষ্কার হতে পারে চিত্রটা।

মাঝেরহাট ব্রিজ দিয়ে পাথর, বালি, লোহা বোঝাই ট্রাক বেহালা, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে। ৫৪ বছরের পুরানো এই ব্রিজ। প্রায় ‘সিনিয়র সিটিজেনের’ তালিকায় নাম লেখাবার সময় চলে এসেছে। অবসর নেওয়ার সময় যার আসন্ন, তার উপর যদি যথেচ্ছভাবে বেশী কাজের ভার দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তার আউটপুট খারাপ হতে বাধ্য। মানুষ হোক কিংবা ব্রিজ বয়স অনুযায়ী ওভারলোড প্রত্যেকের উপর একইরকম প্রভাব ফেলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনেকটা এমনই ছিল।

Advertisement

তথ্য অনুযায়ী ২০ বা তার বেশী চাকার যে ট্রাক গুলি হয় সেগুলি ৩১ টন অবধি মাল বইতে পারে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ এর থেকে দুই থেকে তিন গুন বেশী ওজনের পন্য নিয়ে ‘বুড়ো’ ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াত করছে ট্রাকগুলি। অর্থাৎ ট্রাকগুলির শুধু পণ্যের ওজন হয়ে যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টন।

এবার বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখতে গেলে, দিনে ১০০ টনের পণ্য বহন করা মাত্র একটি ট্রাক যায় না। সেই সংখ্যাটা খান পঞ্চাশেক হতেই পারে। কখনও একসঙ্গে দুটি ট্রাক পরপর ব্রিজের উপর দিয়ে যায়। কখনও আপ ডাউন মিলিয়ে তিন চারটি ট্রাকও যায়। সেক্ষেত্রে হিসাব করলে দেখা যাবে একইসময়ে ৮০ চাকা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে ৪০০ টনের উপর পন্য। সঙ্গে ট্রাকের নিজস্ব একটা ভর রয়েছে।

পড়ুন: মাঝেরহাট সেতুর অবস্থা খতিয়ে দেখতে মনিটারিং সেল

সব মিলিয়ে কি পরিমাণ চাপ বছরের পর বছর মাঝেরহাট ব্রিজের উপর পড়েছে সেটা ব্যখ্যা করতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু মাঝেরহাট নয় এর শহরের বেশিরভাগ ব্রিজকেই এই ‘যন্ত্রণা’ সহ্য করতে হয় বলে জানাচ্ছেন মমতা। তাঁর কথা অনুযায়ী, নতুন হোক কিংবা পুরনো ব্রিজ হোক বেশী চাকার ওভারলোড ট্রাক যাতায়াত করলে ব্রিজ ভাঙতে বাধ্য।

মুখ্যমন্ত্রী কুড়ি বা তার বেশী চাকার গাড়ি ব্রিজের উপর দিয়ে যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন, তা নবান্নে বৃহস্পতিবার দুপুরের বৈঠকের পরই পরিষ্কার । এই প্রসঙ্গে ট্রাক মালিকদের সংগঠনের সদস্য প্রবীর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কুড়ি চাকার ট্রাকে ওভারলোড নিষিদ্ধ করলে আমাদের অসুবিধা নেই। এতে আমাদের ট্রাকের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো হবে। আসল সমস্যা লোডিং পয়েন্ট থেকে ওভার লোডিং হওয়া।” সেটা করতে পারলে তবেই কিছুটা সুরাহা হতে পারে।

তাঁদের আরও অভিযোগ , ওভারলোডিং এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশি জুলুম বেড়েছে ট্রাকচালক এবং খালাসিদের উপরে। ট্রাক সংগঠনের দাবি,এই জুলুমও বন্ধ করতে হবে। না হলে সমস্যা আরও বাড়বে বই কমবে না।

----
--