‘ইফতার পার্টি দিয়ে হিন্দু ভোট ব্যাংক বাড়াতে চাইছে কংগ্রেস’

নয়াদিল্লি: দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী আয়োজিত ইফতার পার্টিতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। সেখানেই চাপা পরে গিয়েছিল প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা প্রণবের সংঘের অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক।

ভারতের জাতীয় কংগ্রেস আয়োজিত ইফতার পার্টির তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। কংগ্রেস ভণ্ডামির চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে বলে অভিযোগ করলেন হায়দরাবাদের সাংসদ ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ, “ইফতার পার্টি দিয়েও হিন্দু ভোট ব্যাংক বাড়াতে চাইছে কংগ্রেস।”

আরএসএসের হেড কোয়ার্টারে ভাষণ দেওয়ার পরে কংগ্রেসের ইফতার পার্টিতে হাজির প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ জল্পনা উড়িয়ে রাহুল গান্ধির আয়োজিত হাই প্রোফাইল ইফতার পার্টিতে বেশ হাল্কা মেজাজেই ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি৷ রাহুল গান্ধির ইফতার পার্টি ছিল জমজমাট৷ হাজির ছিলেন বিরোধী দলের হেভিওয়েট নেতারাও৷ প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক টেবিলেই দেখা গেল সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, তৃণমূলের দীনেশ ত্রিবেদীকে৷

এছা়ড়াও ছিলেন ডিএমকে-র কানিমোঝি, আরজেডির মানস ঝাঁ, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার হেমন্ত সোরেন সহ অনেকেই৷ কংগ্রেসের চিদাম্বরম,একে অ্যান্টোনির সঙ্গে খাশ গল্পে মাতলেন প্রত্যেক বিরোধীন নেতা৷ পারস্পরিক বন্ধুত্বই গুরুত্ব পেল ইফতারের পার্টিতে৷

রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ইফতার পার্টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিজেপি বিরোধী জোটের সার্বিক চিত্র কী হতে চলেছে তার রূপরেখা বা নীল নকশা তৈরির জন্য এই ইফতার ছিল একটা বড় মঞ্চ।

আর এই বিষয়টি নিয়ে দেশের সবথেকে প্রাচীন রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করেছেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করা হলেও মুসলিম সমাজের উন্নতি নিয়ে কংগ্রেস উৎসাহী নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভণ্ডামির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গিয়েছে কংগ্রেস। মুসলিম সমাজের উন্নতির জন্য কংগ্রেসের কোনও উৎসাহ নেই।”

এই মুহূর্তে কংগ্রেস নিজেদের হিন্দু ভোট ব্যাংক মজবুত করতে সচেষ্ট রয়েছে বলেও দাবি করেছেন সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে তিনি টেনে এনেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, “সম্প্রতী রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের অনুষ্ঠানে তাদের সদর দফতরে গিয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। ইফতার পার্টিতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পাশে বসালেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। এতেই কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

এর আগে প্রণব বাবুর সংঘের সভায় যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন আসাদুদ্দিন। কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন শতাব্দী প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসকে। তিনি বলেছিলেন, “কংগ্রেস শেষ হয়ে গিয়েছে। ৫০বছর ধরে কংগ্রেসে থাকা একজন নেতা যিনি প্রেসিডেন্টও ছিলেন, তিনি আরএসএসের হেডকোয়ার্টারে গেলেন। এরপরও কি বলবেন যে কংগ্রেসের দলটার আর কোনও আশা আছে?”