হায়দরাবাদ: কেন্দ্রের শাসকদল বা সরকারের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু, দেশের স্বার্থে সবসময় সরকারের পাশেই থাকবেন বলে জানিয়ে দিলেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিনের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের বিরোধ নতুন কছু নয়। বারবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আক্রমণ করেছেন এনডিএ পরিচালিত কেন্দ্রকে। তাঁর শত্রু তালিকার একদম শীর্ষে নরেন্দ্র মোদীর নাম রয়েছে তা কারো অজানা নয়। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে মোদী সরকারের পাশে দাঁড়াতে দু’বার ভাববেন না বলে জানালেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

এই ঘটনার সূত্রপাত জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া রিপোর্ট ঘিরে। যেখানে বলা হয়েছিল যে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এবং এর জন্য ভারতের সেনা এবং প্রশাসন দায়ি। এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘ-কে একহাত নিয়েছেন আসাদুদ্দিন। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিশয়ে নাক গলানোর কোনও অধিকার রাষ্ট্রসংঘের নেই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আসাদুদ্দিন বলেছেন, “ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার নেই রাষ্ট্রসংঘের। কাশ্মীর নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট ভারতের সার্বভৌম ক্ষমতাকে আঘাত করা হয়েছে।” একই সঙ্গে এআইএমআইএম সভাপতি আরও বলেছেন, “কাশ্মীর রাষ্ট্রসংঘের পেশ করা রিপোর্টের তীব্র নিন্দা করছি। আমরা এই ইস্যুতে মোদীর সরকারের পাশেই আছি।”

আসাদুদ্দিন ওয়াইসি মানেই নরেন্দ্র মোদীর ঘোর বিরোধী। বিজেপি-র তীব্র সমালোচক। ২০১৬ সালে পাকিস্তানে প্রবেশ করে ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন এআইএমআইএম প্রধান। সেই তিনিই কিনা মোদী সরকারকে সমর্থন করছে। তাও আবার কাশ্মীরের মতো ইস্যুতে। এই বিষয়ে আসাদুদ্দিন বলেছেন, “আমাদের সঙ্গে কেন্দ্রের শাসক দলের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু যখন দেশের স্বার্থের প্রশ্ন আসবে, তখন বিনা শর্তে আমরা সরকারের পাশে দাঁড়াব।”

কাশ্মীর নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের ভিত্তিতে পালটা আক্রমণের পথে হেঁটে ওয়াইসি বলেন, “সবার প্রথমে রাষ্ট্রসংঘের উচিত প্যালেস্তাইনের মাটিতে মানবাধিকার কী অবস্থায় আছে তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করা।”

যদিও কাশ্মীরের সার্বিক পরিস্থিতি যে খুব সুখকর অবস্থায় নেই তা একবাক্যে মেনে নিয়েছে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। এই বিষয়ে সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “চার বছর ধরে ওই রাজ্যের বিজেপি-পিডিপি সরকার চলছে। অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। এই বিষয়ে একটু নজর দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অনুরোধ করব।”

রমজান মাসে কাশ্মীরের মাটিতে অনেক রক্ত ঝড়েছে। খুন করা হয়েছে একটি পত্রিকার সম্পাদককে এবং এক সেনা জওয়ানকে। সেই ঘটনাবলীর তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেছেন, “যারা রমজান মাসে মানুষ খুন করতে পারে তারা কি মানুষ?”

----
--