মেয়ের এনগেজমেন্টে ৬কোটি খরচ করে সমালোচিত ‘জ্ঞানপাপী’ আসাদুদ্দিন

হায়দরাবাদ: আড়ম্বরপূর্ণ এবং জাঁকজমকভাবে বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের বরাবর বিরোধিতা করে এসেছেন তিনি। অথচ তাঁর মেয়ের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানেই তাক লাগিয়ে দিলেন বিপুল অর্থ খরচ করে।

তিনি এআইএমআইএম প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাউদ্দদিন ওয়াইসি। নিজের বড় মেয়ের বিয়ের এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠানে বিপুল খরচ করে ফেসে গিয়েছেন নিজেরই বলা কথার জালে। সমালোচনা শুরু হয়েছে নানা মহলে।

বিশিষ্ট সাংসদ এবং দেশের মুসলিম সমাজের মুখ বলে দাবি করা আসাদুদ্দিন ওয়াইসির বড় মেয়ের এনগেজমেন্ট ছিল গত শনিবার। বিশিষ্ট রাজনীতিকের বড় মেয়ে বলে কথা। অনাড়ম্বর হলে চলে নাকি! লৌকিকতা দেখাতে গিয়েই বিপাকে পড়তে হল আসাদুদ্দিনকে।

- Advertisement -

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আসাদুদ্দিন ওয়াইসি-র মেয়ের বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন প্রায় ১০ হাজার জন। যাদের আপ্যায়নের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। যার মধ্যে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে দুবাই থেকে নিয়ে আসা সুন্দর প্লেট এবং বাহারি ফুলের পিছনে। যেখানে এনগেজমেন্ট পার্টি হয়েছে সেই জায়গাটির ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে ৮৫ লক্ষ টাকা। ১০ হাজার অতিথির জন্য আয়োজন করা হয়েছিল ৪০০ রকমের খাবারের পদ।

এই সকল তথ্য সামনে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে সমালোচনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে একটি বেনামি চিঠি। যেখানে ওই চিঠির আসাদুদ্দিনকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে অতীতে তাঁর বিয়ের পিছনে বিপুল খপ্রচের বিরোধিতা করার কথা। বারবার তিনি বলেছিলেন কম খরচে বিয়ের অনুষ্ঠান সারতে। শুধু তাই নয়, নিজের বক্তব্যের সমর্থনে আসাদুদ্দিনের সেই বন্ধুর কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে সেই চিঠিতে। আসাদুদ্দিন বলেছিলেন, “আপনার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কথা বলেছিলেন, যাঁর অনেকগুলি বিবাহযোগ্য বোন, মেয়ে আছে কিন্তু তাঁদের বিয়ে দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই।”

সেই বন্ধুর আর্থিক অবস্থার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, “এরকম হাজার হাজার অসহায় মানুষ আছেন। উনি একা নন। যখন আপনার মেয়ের এনগেজমেন্ট পার্টি বা বিধায়ক বালালার মেয়ের বিয়ের মতো ঘটনা সমাজে জাতে ওঠার মতো ব্যাপার হয়ে যায়, তখন আপনার সেই বন্ধুর মতো মানুষজনের নিজেদের বিকিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিচ্ছু করার থাকে না।”

Advertisement ---
---
-----