নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আসারাম বাপুর নিরাপত্তা কর্মীরা

নয়াদিল্লি : ক্রমশ জটিল হচ্ছে আসারাম বাপুর বিরুদ্ধে চলা ধর্ষণ মামলা৷ এবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বাবার নিরাপত্তাকর্মীরা৷ তাদের আশঙ্কা বাবার সমর্থকদের থেকে তাদের দিকেও আসতে পারে আঘাত৷ তাই তারা বুলেট প্রুফ জ্যাকেটের আবেদন জানিয়েছে৷

আপও পড়ুন- স্বচ্ছ ভারত-নোট বাতিল এবার ঠাঁই পেতে চলেছে সিলেবাসে

আসারাম বাপুর মামলায় ৩ জন সাক্ষীর খুন হয়ে গেছে৷ ৩ জন নিরুদ্দেশ৷ আদালত চত্বরের মধ্যেই একজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়৷ তা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত আসারামের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় (খুন) কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি৷ এবার কি তবে হামলা হতে পারে তাদের উপর? তেমনটাই মনে করছেন আসারাম বাপুর নিরাপত্তাকর্মীরা৷ তাই কর্তৃপক্ষের কাছে তারা বুলেট প্রুফ জ্যাকেট চেয়েছে৷ শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে ৩ পুলিশ অফিসার মোতায়েন করা হয়েছে৷ নির্যাতিতার দাদার জন্য একটি আগ্নেয়াস্ত্রেরও আবেদন জানানো হয়েছে৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন-চিন সফরে গিয়ে ডোকালাম সমস্যা মেটাতে মোদীকে ‘পরামর্শ’ সেনার

২০১৩ সাল থেকে রাজস্থানের সংশোধনাগারে রয়েছেন ৭৬ বছর বয়সী আসারাম বাপু৷ ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে৷ সেই বছরের গোড়ার দিকে ঘটনাটি ঘটে৷ অভিযোগ ওঠে, গুজরাতের সুরাতে নিজের আশ্রমে ওই ১৬ বছরের নাবালিকা ও তার বোনকে ধর্ষণ করেন তিনি৷ গান্ধীনগর আদালতে এখনও সেই মামলা চলছে৷ এতদিনেও মামলাটি না শেষ হওয়ায় গুজরাত সরকারকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট৷ বলে, “আসারাম বাপুর মামলা এত দেরি হচ্ছে কেন? কেন তোমরা এখনও আক্রান্তকে পরীক্ষা করনি?” সেই সঙ্গে সমস্ত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সেরে ফেলতে বলে আদালত৷

আরও পড়ুন- নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেবেন রাজীব গওবা

এরপর এই মামলায় আরও একটি তথ্য সামনে আসে৷ নির্যাতিতার বাবা অভিযোগ তোলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের কাছে ক্রমাগত হুমকি আসছে৷ তিনি বলেন, “আমি ওই শয়তানের ফাঁসি ছাড়া কিছু চাই না৷ যারা আমাদের মেয়েদের জীবন নিয়ে খেলা করে, মানবতার নামে আমাদের বিশ্বাস উপড়ে ফেলে, তাদের ফাঁসিই কাম্য৷ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মামলা পিছিয়ে দিচ্ছে আসারাম৷ তারিখের পর তারিখ নিয়ে যাচ্ছে৷ সাক্ষ্যর জন্য সাক্ষী আনা হচ্ছে না৷ ওর আইনজীবী মামলাটি ক্রমশ টেনেই যাচ্ছে৷ যদি এভাবেই দেরী হয়, মামলা দুর্বল হয়ে যাবে৷ আমাদের মতো গরিব লোকেরা আর্থিক চাপ ও মানসিক নির্যাতনের তলায় চাপা পড়ে যাবে৷ এভাবেই ক্ষমতাশীল মানুষেরা টাকার জোরে আমাদের ভেঙে দেয়, ভয় দেখায়৷ যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মামলা তুলে না নিই, এসব চলতেই থাকে৷”

Advertisement ---
---
-----