টিচার্স ডে: পড়ানোর নেশাতেই ৩৭০কিলোমিটার পাড়ি দেন এই শিক্ষক

গুরুগ্রাম: আজ ৫ সেপ্টেম্বর সমগ্র দেশে শিক্ষক দিবস পালন করা হচ্ছে৷ মনে করা হয়, একজন ব্যক্তির ভিত মজবুত করার পিছনে মা এবং শিক্ষকের সবথেকে বড় অবদান থাকে৷ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের চিন্তাধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশে আজও এমন বহু শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা নজির গড়ে তুলেছেন৷ আর এঁদের মধ্যেই একজন হলেন গুরুগ্রামের আশিষ দবরাল৷ যিনি গ্রামের ছোট ছোট বাচ্চাদের শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যেই প্রতি সপ্তাহে গুরুগ্রাম থেকে উত্তরাখণ্ডে আসেন৷

আশিষ একটি মাল্টি ন্যাশনাল সংস্থায় কর্মরত৷ ছোটদের পড়াতে তিনি ভালোবাসেন৷ তাঁর গ্রাম পৌড়ি-গড়ওয়াল জেলাতে৷ ১৮৮২ সালে তাঁর ঠাকুরদার ঠাকুরদা একটি সংস্কৃত স্কুল খুলেছিলেন৷ সে সময় সেটি গড়ওয়াল, হিমালয়ে একমাত্র সংস্কৃত স্কুল ছিল৷

একসময়ে এই স্কুলে অনেক পড়ুয়াই আসত৷ কিন্তু ২০১৩ সালে আশিষ জানতে পারেন মাত্র তিনজন ভর্তির জন্য নাম লিখিয়েছে৷ দারিদ্রের জন্য শিক্ষা থেকেও যে ছোটদের মুখ পিরিয়ে নিতে হয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠতেই আশিষ তাঁর গ্রামে আত্মীয়ের সহায়তায় একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার খোলেন৷ নাম দেন- দ্য ইউনিভার্সাল গুরুকুল৷

পড়ুন: দেশে বিদেশে শিক্ষক দিবসের কিছু কথা

যেখানে আশেপাশের গ্রাম থেকেও অনেকে কম্পিউচার সিকতে আসেন৷ তবে এই কম্পিউটার সেন্টার খোলার পথ সহজ ছিল না৷ অর্থের জোগান, সেই সঙ্গে বহু চাকরি বদল, অনেক কিচুর মুখোমুখি হতে হয় তাকে৷ তবে তাঁর পাসে ছিলেন তাঁর স্ত্রী৷ ২০১৩ সালে গুরুগ্রামে তিনি শিফট হন৷ আর ২০১৪সালে এই সেন্টার খোলেন তিনি৷

প্রতি সপ্তাহে গুরুগ্রাম থেকে তিমলি যান আশিষ এবং কম্পিউটার সেন্টারের সঙ্গে পাশের প্রাইমারি স্কুলে ছোটদের পড়ানও তিনি৷ প্রায় ২৩ গ্রামের অনেক বাচ্চাই সেখানে পড়তে আসে৷ প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার সপর করে আসে এই খুদে খুদে পড়ুয়ারা৷ অন্যদিকে প্রতি সপ্তাহে ৩৭০ কিলোমিটার(গুরুগ্রাম থেকে উত্তরাখণ্ড) প্রায় ১০ ঘন্টা সফর করে পড়ানোর নেসাতেই ছুটে আসেন আশিস দোবরাল৷

----
-----