এত অভিযোগ, তবু পুনর্নির্বাচনের দাবি নেই কেন?

এক মাস ধরে সাত দফার যে নির্বাচন পর্ব চলছিল রাজ্যে, তা শেষ হল৷ ফলাফল ১৯ মে৷ মাঝখানে প্রায় এক পক্ষ চাপা টেনশন চলবে৷ বৃহস্পতিবার যে ২৫টি আসনে ভোট হল, সম্ভবত সাত দফার নির্বাচনে এদিনই সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে৷ এবং, অন্য দফাগুলির মতোই সামান্য কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিতে এবং নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে৷ বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ কিন্তু সরকারিভাবে কোনও দলই কোনও দফার ভোটেই পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়নি৷ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেও কোথাও কোনও পুনর্নির্বাচন চাওয়া হয়নি৷ চাওয়ার কথাও নয়৷ এতেই বোঝা যাচ্ছে, ভোট নিয়ে কার্যত কারও কোনও অভিযোগ নেই৷

অশোক বসু
অশোক বসু

পুনর্নির্বাচন না চাওয়া হলেও বিরোধী কংগ্রেস-সিপিএম জোট একদিকে বলেছে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে, অন্যদিকে তাদেরই দাবি, পুরো নির্বাচন পর্বেই ব্যাপক সন্ত্রাস চালিয়েছে শাসকদল তৃণমূল৷ বহু জায়গাতেই তাদের এজেন্টদের বসতে দেওয়া হয়নি৷ বহু জায়গায় এমন ভয় দেখানো হয়েছে যে, যাঁদের নির্বাচনী এজেন্ট হওয়ার কথা ছিল তাঁরা নিজেরাই এজেন্ট হিসাবে বসতে রাজি হননি৷ বহু ভোটারকেও ভয় দেখিয়ে নাকি ভোট দিতেই আসতে দেওয়া হয়নি৷ এমন অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন৷ তাই, এই রকমই অভিযোগ করা হয়েছে প্রচুর৷ জোর দিয়ে যদি এইসব অভিযোগ করা যায়, তাহলে পুনর্নির্বাচনেরও দাবি তোলা সম্ভব৷ বিরোধীরা কেন সেই সুযোগগুলো নিলেন না, তা বোঝা মুশকিল৷ তাঁদের দাবি, তাঁরা এই ভোটে জিতছেন৷ সাধারণ মানুষের অসাধারণ উপস্থিতি তাঁদের এই দাবির উৎস৷ তাঁরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের ভোট অবাধে দিতে পেরেছেন, তাহলে সে ভোট সরকারের বিরুদ্ধে যাবে৷ এতটাই যদি আস্থা থাকে, তাহলে তো যেসব জায়গা নিয়ে তাঁদের অভিযোগ সেগুলিতে পুনর্নির্বাচন চাওয়াই যেতে পারত৷ তাতে ফলাফল তাঁদের পক্ষে আরও ভালোই হত, এ কথা বলা বাহুল্য৷ তবু কেন তাঁরা পুনর্নির্বাচনের দাবি জানালেন না৷ সেটাই আশ্চর্য৷

অন্যদিকে, যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তারা কিন্তু নির্বিকার৷ শেষ দফার নির্বাচন পর্যন্তও অপেক্ষা করেননি দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দু’ দফা আগেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা সরকার গড়ার মতো আসন পেয়েই গিয়েছেন৷ বাকিটা বাড়তি৷ তৃণমূল নেতৃত্বের বিশ্বাস, এই পাঁচ বছরে সরকার উন্নয়নের যে কাজ করেছে, মানুষ ইভিএমেই তার জবাব দিয়েছেন৷ বিপুল পরিমাণ ভোট তাঁদের কাছে আতঙ্কের নয় বলে বার বার জানিয়েছেন তাঁরা৷

তবে অতি উৎসাহ বিরোধী কংগ্রেস-সিপিএম জোটের৷ চতুর্থ দফার পর থেকেই তারাই যে সরকার গড়ছে, তা নানাভাবে কৌশলে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে৷ যেহেতু বুথফেরত কোনও সমীক্ষা ১৬ মে-র আগে প্রকাশ করা যাবে না, তাই কখনও পুলিশের রিপোর্ট, কখনও আইবি রিপোর্ট বলে এমন অনেক ভোটফল ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলিতে কংগ্রেস-সিপিএম জোটকেই সরকার গড়ার ব্যাপারে এগিয়ে রাখা হয়েছে৷ শেষ দফা নির্বাচনের আগেও সেন্ট্রাল আইবি-র রিপোর্ট বলে একটি ভোটফল ছড়ানো হয়েছে৷ যেখানে দেখানো হয়েছে, জোট পাচ্ছে মোট ১৬৫টি আসন৷ তৃণমূলের দখলে আসবে ১২১টি৷ এবং বিজেপি পাবে আটটি৷ সব মিলিয়ে ২৯৪টি আসন৷ এর মধ্যে নিশ্চয়ই পাহাড়ের তিনটি আসন রয়েছে৷ যে তিনটি সম্ভবত পাবে বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা৷ তাদের কোন দিকে রাখা হয়েছে, বোঝা যাচ্ছে না৷ জোটের ১৬৫টির মধ্যে, না কি তৃণমূলের ১২১টিতে! অতএব পাঁচ বছরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে হটিয়ে কংগ্রেস-সিপিএম জোট ক্ষমতায় আসতে চলেছে৷ পর পর কয়েকটি এ রকম রিপোর্টে জোটকে যতটা এগিয়ে দেওয়া হয়েছে, শেষ দিনের ভোটের পর সম্ভবত এই রিপোর্টটা আবার বদলে যাবে৷ এবং, জোটের আসন সংখ্যা ১৮০-তে গিয়েও দাঁড়াতে পারে৷

দীর্ঘদিন ধরে ভোট দেখছেন, ভোট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং আগ্রহী এক ভদ্রলোক অবশ্য একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন৷ তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ২০১১ সালের নির্বাচনে ১৮২টি আসন পেয়েছিল৷ এবার রাজ্যের ২০টি জেলায় যদি তার থেকে দুটি করে আসন কম পায়, তাহলেই তৃণমূলের আসন সংখ্যা কমে যায় ৪০টি৷ সেক্ষেত্রে তাদের মোট প্রাপ্তির সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪২৷ উত্তরবঙ্গের সাতটি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংগঠনিকভাবে কমজোর৷ সেক্ষেত্রে আরও কিছু আসন কমবে৷ তাঁর ধারণা, তৃণমূল কংগ্রেস কমবেশি ১৩০টি আসন পেতে পারে৷ কিন্তু তিনি একটা বিষয়ে ভাবেননি৷ সেটা হল গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস যতগুলি আসন পেয়েছিল, তার কিছু নিজের ক্ষমতায় হলেও অনেকটাই তৃণমূলের সঙ্গে জোটে থাকার সুবাদে৷ সেগুলিকে যদি তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রাপ্ত আসনের সঙ্গে যোগ করা যায়, তাহলেই ম্যাজিক ফিগার পার হয়ে যায়৷

দলে দলে সাধারণ মানুষ কড়া রোদ উপেক্ষা করেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কাদের ভোট দিয়ে এসেছেন, তার উপরই নির্ভর করবে ফলাফল, নাকি রাজনৈতিক অঙ্কই শেষ কথা বলবে, তা বোঝা যাবে ১৯ মে৷

(লেখক ‘বর্তমান’ পত্রিকার প্রাক্তন কার্যনির্বাহী সম্পাদক এবং ‘সংবাদ প্রতিদিনে’র প্রাক্তন সহযোগী সম্পাদক)

জনপ্রিয় রাজনৈতিক সংবাদ

১. মমতার ক্ষমতায় ফিরে আসা নিয়ে সংশয় মার্কিন মিডিয়ার!

২. তৃণমূলকে ভোট দেবেন না শিল্পপতিরা : হর্ষ গোয়েঙ্কা

৩. এবারও তৃণমূল ২০০-রও বেশি আসনে জিতে ক্ষমতায় আসবে

৪. সিপিএমকে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার সঙ্গে তুলনা মানিকের!

৫.    বামেদের হয়ে ভোট চাইলেন বিজেপি প্রার্থী চন্দ্র বোস

৬.  দিদির নেত্রী থেকে অভিনেত্রীতে উত্তরণ!

৭. কলকাতাতেই আছে মিনি-পাকিস্তান: ফিরহাদ

৮. কংগ্রেস বিধায়ক কার্যালয়ে ‘ডান্সরার’!…

৯. মমতাকে কড়া আক্রমণ করলেন শচীন 

১০.‘আনএডিটেড’ মির্জা: ”মদন মিত্রের এক স্ত্রী ছিলেন পিয়ালি”

----
-----