৪৬ বছর আগে কোনও অস্ত্র ছাড়াই হাসিনাকে বাঁচিয়েছিলেন এই সেনা অফিসার

নয়াদিল্লি: ২৪ ঘণ্টা আগেই ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল ৯৩০০০ পাক সেনা। আর ঠিক তার পরের দিনই আরও একটা নতুন অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হল মেজর অশোক তারাকে। বীর চক্র গঙ্গাসাগরের যুদ্ধে ‘বীর চক্র’ পাওয়া এই সেনা অফিসারকে বলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের পরিবারকে উদ্ধার করে আনতে হবে। মুজিবর রহমানের মেয়ে হাসিনা তখন ২৪ বছরের।

পাকিস্তানি ট্রুপ তখন ঘিরে রেখেছিল মুজিবর রহমানের বাড়ি। ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে ধানমান্ডিতে মুজিবর রহমানের বাড়িতে পণবন্দি হয়েছিল তাঁর পরিবার। মাত্র তিনজন জওয়ানকে সঙ্গী করে সেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন মেজর তারা। উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে কাজ হাসিল করে নেন সহজেই। একফোঁটাও রক্ত ঝরেনি।

ঢাকায় পৌঁছেই দেখেন আতঙ্কিত মানুষের ভিড়। তাঁদের গাড়ি থামিয়ে লোকজন এসে বলতে শুরু করে যে, আর এগোনোটা ঠিক হবে না। বিপদ হতে পারে। একটা ভাঙা গাড়ি আর তার মধ্যে থাকা মৃত চালককে দেখিয়ে বিপদের ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু কারও কথা শোনেননি মেজর তারা। সঙ্গী জওয়ানদের কাছে অস্ত্র রেখেই এগিয়ে যান তিনি। ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাঁর।

- Advertisement -

পাকিস্তানি সেনা তাঁকে দেখে বলতে শুরু করে যে, এক পা এগোলেই তাঁরা গুলি করে মেরে ফেলবে মুজিবরের পরিবারকে। সেই চরম মুহূর্তে নার্ভ শক্ত রেখে, মেজর তারা বোঝাতে শুরু করেন, যে পাক সেনা আত্মসমর্পণ করেছে। একথা তাদের জানাই ছিল না। তিনি জানান, যুদ্ধ প্রায় শেষ। পঞ্জাবি আর হিন্দি মিশিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ না হলে কি কোনও ভারতীয় সেনা অফিসার অস্ত্র ছাড়া পাকিস্তানি ট্রুপের সমনে এসে দাঁড়াত? পরিস্থিতি আয়ত্তে চলে আসে। কোনও ক্ষতি না করেই বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ফিরিয়ে দেন পাক সেনা। একটা আঁচড়ও লাগেনি।

২০১২ সালে কর্নেল অশোক তারাকে “Friend of Bangladesh” সম্মান দেন হাসিনা। ১৯৬৩ তে ভারতীয় সেনায় যোগ দেন ও ১৯৯৪ সালে কর্নেল হিসেবে অবসর নেন তিনি।

Advertisement
-----