সত্যিই কি ছিল মহাভারতের জতুগৃহ? মাটি খুঁড়ে বেরোবে ইতিহাস

লখনউ: মহাভারতের জতুগৃহের কথা মনে আছে? যেখানে পাণ্ডবদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করেছিলেন দুর্যোধন? সেই জতুগৃহই এবার খুঁজে বের করার কাজ শুরু হল। জতুগৃহের খোঁজে মাটি খননের অনুমোদন দিল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া।

উত্তরপ্রদেশের বাঘপত জেলার বারনাওয়া এলাকায় সেই জতুগৃহেরই ধ্বংসাবশেষ রয়েছে বলে মনে করা হয়। কিন্তু তা পৌরাণিক জতুগৃহের কিনা সেবিষয়ে নিশ্চিত নয় আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। স্থানীয়দের অবশ্য দাবি, এটাই জতুগৃহ এবং এখান থেকেই পাণ্ডবরা পালিয়েছিল।

ঐতিহাসিক ও পুরাতত্ববিদদের দাবি মেনে অবশেষে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন খননের অনুমতি দিল আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। মহাভারতে এই জতুগৃহের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই বাড়িতেই পাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল কৌরবরা। একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে পালাতে হয়েছিল পাণ্ডবদের। এএসআই-এর ডিরেক্টর জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, পুরাতত্ববিদদের প্রস্তাব ভাল করে খতিয়ে দেখার পর দিল্লির ইনস্টিটিউট অফ আর্কিওলজি ও এএসআই-এর দুটি টিমকে ওই জায়গায় খননকার্য চালানোর অনুমতি দিয়েছে।

- Advertisement -

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই খননকার্য শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জিতেন্দ্র সিং। এই কাজ চলবে আগামী তিন মাস পর্যন্ত। এই কাজে আর্কিওলজির ছাত্রছাত্রীরাও অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই জায়গার পৌরাণিক গুরুত্ব কতটা তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি জিতেন্দ্র সিং। এই সাইটটি বেছে নেওয়ার প্রধান কারণ হল চান্দায়ন ও সিনৌলির মত গুরুত্বপূর্ণ সাইটের সঙ্গে এই সাইটের সম্পর্ক। ২০০৫ সালেই সিনৌলিতে হরপ্পা আমলের একটি গোরস্থানের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে কঙ্কাল ও তামার বাসনপত্র পাওয়া গিয়েছে। চান্দায়নেও একটি প্রাচীন তামার মুকুট পাওয়া যায়। তবে বারনাওয়ার এই সাইটের বেশিরভাগটাই ধ্বংস হয়ে গেলেও একটি সুড়ঙ্গ এখনও রয়েছে। এই সুড়ঙ্গ দিয়েই পাণ্ডবরা জ্বলন্ত জতুগৃহ থেকে পালাতে পেরেছিলেন বলে ধারনা স্থানীয়দের। ইতিহাসের অধ্যাপক কৃষ্ণকান্ত শর্মার মতে, এই সুড়ঙ্গগুলি এতটাই গভীর ও তাতে এতগুলি বাঁক রয়েছে, যে আজ পর্যন্ত খুব একটা কেউই এগোতে পারেনি।

Advertisement ---
---
-----