নয়াদিল্লি: জাকর্তা এশিয়ান গেমসে পদক জিতে দেশের নাম রোশন করেছেন৷ কিন্তু এশিয়াড থেকে দেশে ফিরেই চায়ের কেটলি হাতে তুলে নিতে হল ভারতীয় অ্যাথলিটকে৷ এটাই ভবিতব্য!

পদক সংখ্যার বিচারে জাকার্তায় অষ্টাদশ এশিয়াডে রেকর্ড গড়েছে ভারত৷ ১৫টি সোনা-সহ ৬৯টি পদক জিতে ২০১০ গুয়াংঝাউকে পিছনে ফেলেছে ১২৫ কোটির দেশ৷ পদকজয়ী অ্যাথলিটদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার৷ কিন্তু ঘরের ফেরার পরও চিত্রটা বদলায়নি৷ হরিশ কুমারের৷ সেপাক টাকরো ইভেন্টে দেশকে ব্রোঞ্জ এদে দিয়েছেন দিল্লির ছেলে হরিশ৷ কিন্তু দেশে ফিরেই ফের ব্যস্ত হয়ে পড়লেন বাবার চায়ের দোকানে৷

আরও পড়ুন: ঘরে ফিরলেন সোনার মেয়ে স্বপ্না

দিল্লির মাঞ্জু-কা-টিল্লায় চায়ের দোকান হরিশের বাবার৷ সেখানের চা তৈরি করে খদ্দেরদের হাতে তা তুলে দিচ্ছেন এশিয়াডে ভারতীয় অ্যাথলিট৷ এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাতকারে হরিশ জানান, ‘আমাদের পরিবারের অনেক সদস্য রয়েছে৷ খুব অল্প কয়েকজনই আয় করেন৷ পরিবারের কথা ভেবে আমি চায়ের দোকানে এসে বাবাকে সাহায্য করি৷ পাশাপাশি নিয়মিত আমি চার ঘণ্টা (২-৬টা) করে প্র্যাকটিস করি৷ ভবিষ্যতে ভালো কাজ পেলে পরিবারকে সাহায্য করতে পারব৷’

ভারতীয় সেকাপ টাকরো দলের সদস্য হলেন হরিশ৷ জাকার্তা এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জিতেছে ভারতীয় দল৷ সাত বছর আগে এই খেলায় হাতেখড়ি হয়েছিল হরিশের৷ এই খেলায় আশা প্রসঙ্গে হরিশ বলেন, ‘২০১১ আমি এই খেলায় আসি৷ কোচ হেমরাজ আমাকে এই খেলায় নিয়ে আসেন৷ উনি আমাকে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ায় নিয়ে যায়৷ সেখান থেকে আমি প্রতি মাসে সাহায্য পাই৷ দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করার জন্য আমাকে নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে হবে৷’

আরও পড়ুন: রাতারাতি ভোলবদল স্বপ্নার গ্রামের

ইন্দিরা দেবীও ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন৷ তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ছেলেদের মানুষ করি৷ ওর বাবা অটো চালায়৷ আমাদের একটি চায়ের দোকান রয়েছে৷ আমার ছেলেও ওখানে বাবার সঙ্গে কাজ করে৷ সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ৷ কারণ সরকার ওকে থাকার জায়গা ও খাবার দেয়৷ কোচ হেমরাদের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ৷ ছেলের সাফল্যের ওনার অনেক অবদান রয়েছে৷’

এশিয়াডে পদক জয়ীদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ ব্রোঞ্জ জেতায় রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ এবং সাই-এর তরফে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার পাবেন হরিশ৷

আরও পড়ুন: স্বপ্নার সাফল্যে সোনালি আলোয় ভাসছে জলপাইগুড়ি

----
--