‘ডাকাত রানি’ বলা সেই মুকুল-ঘনিষ্ঠই ক্ষমা চাইছেন মমতার কাছে

কলকাতা: একসময় প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছিল ‘ডাকাত রানি’। সেই ‘ডাকাত রানি’র দলেই সকলেই সারদা কাণ্ডে জড়িত বলেও দাবি করেছিল। সেই ব্যক্তিই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আলোচ্য ব্যক্তি হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সারদা কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত আসিফ খান।

আরও পড়ুন- সুদর্শন ছাড়াই মহানগরের রাজপথে নামবেন শয়ে শয়ে কৃষ্ণ

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস। সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে তখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তদন্তভার সিবিআই হাতে নেওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতেও আঁচ পড়েছে। এমন সময় ওই কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যবসায়ী আসিফ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময়েই সাংবাদিকদের সে বলেছিল, “ডাকাত রানির দলের সবাই সারদা কাণ্ডে যুক্ত আছে।” ডাকাত রানী কে? এই প্রশ্নের জবাবে বলেছিল, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” সম্প্রতি তার সাক্ষাতকার প্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ডিএনএ।

- Advertisement -

আরও পড়ুন- ‘রাহুল গান্ধী স্কিৎজোফ্রেনিক, তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন’

চার বছরের মধ্যেই ঘটে গিয়েছে ভোল বদল। একদা মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ আসিফ খান মুখ্যমন্ত্রী পাশেই থাকতে আগ্রহী। নিজের ভুলের জন্যে সে ক্ষমাপ্রার্থী তৃণমূল নেত্রীর কাছে। তার কথায়, “তাড়াহুড়োয় খুব বাজে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। সারদা কাণ্ডে মুকুল রায় জড়িত ছিল। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় আমাকেও গ্রেফতার করল সিবিআই। দলের মধ্যে অনেক বেনোজল ঢুকে পড়েছিল। সেই কারণেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম।”

আরও পড়ুন- চিনে মুসলিমদের ধর্ম ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে: রিপোর্ট

সেই সময়েই দলনেত্রীর বিরুদ্ধেও বেফাঁস মন্তব্য হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছে আসিফ খান। দীর্ঘ সময় পড়ে বুঝতে সে বুঝতে পেরেছে নিজের ভুল। সেই কারণেই নেত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে চাইছে সে। তার কথায়, “দলের প্রতি আমি ঋণী। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।”

আরও পড়ুন- ‘ক্ষতিগ্রস্ত হয়েই নোট বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাহুল’

একই সঙ্গে কেন্দ্রের শাসক ভারতীয় জনতা পার্টিকে আক্রমণ করেছে আসিফ খান। তার অভিযোগ যে পথে বিজেপি পরিচালিত সরকার চলছে তাতে বাংলার মুসলিমদের অবস্থা খুব খারাপ হবে। বিজেপিকে রুখতে সকলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা উচিত বলে জানিয়েছে আসিফ। তার মতে, “অমিত শাহের মট লোকেরা বলছে এই রাজ্যে ২২টা আসন পাবে। নিশ্চয় তাঁদের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এই অবস্থায় সকলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা উচিত। কারণ তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সফলভাবে লড়াই করছেন।”

আরও পড়ুন- গুজরাত হিংসা: মামলাগুলির দায়িত্ব ঘাড় থেকে নামাল সুপ্রিম কোর্ট

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভোট ভাগাভাগি নিয়েও আশংকা প্রকাশ করেছে আসিফ খান। বিজেপি বাংলার মুসলিম সমাজের ভোট ভাগ করতে চাইছে বলেও দাবি করেছে সে। এই অবস্থায় সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করার আবেদন করেছে আসিফ খান। অন্যথায় ত্রিপুরার মতো অনর্থ ঘটতে পারে বলেও সাবধান করে দিয়েছে সে। আসিফ বলেছে, “ভোট ভাগাভাগির কারণেই ত্রিপুরায় জিতে গেল বিজেপি। আপাতদৃষ্টিতে যা অবিশ্বাস্য।”

Advertisement ---
-----