গুয়াহাটি: তাদের পরিবার উত্তরপ্রদেশ থেকে চলে এসেছিল অসমে৷ ১৯৪৫ সাল থেকে তাদের পরিবার অসমে বসবাস করছে৷ অথচ সঠিক তথ্য না থাকায় নাকি সেই পরিবারের ছেলে ও ছেলের বউ নাকি নাগরিকপঞ্জির হিসেবে অনুপ্রবেশকারী৷ এই তথ্যই প্রাণ কেড়ে নিল মায়ের৷ ৭০ বছর বয়েসী বৃদ্ধা মারা গেলেন নাগরিকপঞ্জির হিসেব শুনে৷

৭০ বছরের ছোটকী দেবী প্রজাপতি, তাঁর ছেলে দীনেশ প্রজাপতি ও পুত্রবধূ নাগরিকপঞ্জির তালিকায় ঢুকতে পারেননি৷ অথচ তাদের কাছে সব নথিই রয়েছে৷ এদের প্রত্যেককেই নাকি অনুপ্রবেশকারী, এমনই বলছে নাগরিকপঞ্জি৷  এই তথ্যের ধাক্কা সামলাতে পারেননি ছোটকী দেবী৷ নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের কিছুদিন পরেই মারা যান তিনি৷

Advertisement

উত্তর অসমের তিনসুকিয়া জেলার একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে রয়েছে এই পরিবার৷ সেখানেই পরিচয়হীনতার শোক সামলাতে না পেরে হৃদরোগে মৃত্যু হয় ছোটকী দেবীর৷

ইন্দিরা আবাস যোজনার আওতায় একটি ছোট বাড়ি ও কিছু জমি নিয়ে জীবন চলছিল এই পরিবারের৷ ছোটকী দেবীর দুই ছেলে দীনেশ ও রাজেশ এবং তাদের পরিবারের কেউই নাগরিকপঞ্জির আওতায় আসেনি বলে দাবি তাঁদের৷ ফরেনারস ট্রাইবুনালে এদের প্রত্যেককে জেরা করা হয় বলে জানা গিয়েছে৷ তবে দীনেশ ও তার স্ত্রী ট্রাইবুনালে জেরার জন্য আসতে পারেননি৷ তারপরেই এদের দুজনকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ এরপরেই অসুস্থ ছোটকী দেবী তার ছেলে ও ছেলের বউয়ের মুক্তির জন্য বিভিন্ন জায়গায় দরবার করেন৷ কিন্তু কোনও লাভ হয়নি৷ শুক্রবার আচমকা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়৷

----
--