১৯ বছরের ধর্ষককে ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত

দিসপুর: নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জাকির হুসেন(১৯)কে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করল অসমের নাগাওন জেলা ও দায়রা আদালত। পকসো আইন অনুযায়ী,বিচারপতি রীতা কর এদিন জাকির হুসেন(১৯)কে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দণ্ডিত করেন।

চলতি বছর মার্চ মাসের ২৩ তারিখে বাড়িতে একা পেয়ে ১১ বছর বয়সী এক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে আট নাবালক। ঘটনার ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। নাগাওন জেলার ধনিয়াবেথি লালুউং গাঁওয়ে মেয়েটির নিজের বাড়িতে ধর্ষণের পর আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এবং এরপরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। নাবালিকা মেয়েটিকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরদিনই তার মৃত্যু হয়।

বাতাদ্রেভা থানায় ওই নাবালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অন্যায়ভাবে বাড়িতে প্রবেশ করা, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং খুনের ধারায় মামলা রুজু করা হয়। ঘটনার প্রায় একমাসের মধ্যেই ২৮শে এপ্রিল আট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে পুলিশ।

- Advertisement -

নাগাওনের অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট রিপুল দাস জানান,’৪ঠা সেপ্টেম্বর আদালত হুসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং অন্য পাঁচ অভিযুক্তকে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে জামিন দেয়। পাশাপাশি অন্য দুই দোষীকে তিন বছরের জন্য সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় জুভেনাইল কোর্ট।’

এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন সাধারণ মানুষ। এরইমধ্যে অসম সরকার ঘোষণা করে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে তারা ধর্ষণ রোখার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন করবেন।

পাশাপাশি মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর নিযুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথাও জানায় সরকার। প্রতিটি থানায় ৩০ শতাংশ মহিলা পুলিশ নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দা সোনোয়াল মহিলাদের জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বর প্রকাশ করেন,’১৮১-সখী’। এর পাশাপাশি অসমে মহিলা ও শিশুদের ধর্ষণ ও খুনের মামলার ক্ষেত্রে একটি ফাস্ট ট্যাক কোর্ট চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় অসম সরকার। গুয়াহাটি হাই কোর্ট সরকারের এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয়।

Advertisement ---
-----