মমতার ‘খামখেয়ালিপনায়’ পদত্যাগ তৃণমূল রাজ্য সভাপতির

শিলচর:  এনআরসি ইস্যুতে মমতার সঙ্গে মতবিরোধ। পদত্যাগ করলেন শাসকদলের অসমের রাজ্য সভাপতি দীপেন পাঠক। আজ বৃহস্পতিবার হঠাত করেই তার পদত্যাগ পত্র পাঠান তৃণমূল সদর দফতরে। জানা গিয়েছে, মূলত এনআরসি নিয়ে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগোচ্ছে তাতে একেবারেই খুশি ছিলেন না দীপেন। আর সেই কারণেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর।

পড়ুন আরও- তৃণমূল প্রতিনিধিরা হোটেলে মাছ-ভাত খাবেনা’

অন্যদিকে, দীপেন পাঠকের সঙ্গেই দল ছেড়েছেন আরও দুই তৃণমূল নেতা। তাদের নাম দীগন্ত সাইকিয়া এবং প্রদীপ পাচনি। অসমে তৃণমূলকে শক্তি জোগাতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা জানিয়েছেন, ”এনআরসি ইস্যুতে কোনও বাস্তব জ্ঞান নেই মমতার। কিছু না জেনেই ‘খামখেয়ালি’ মন্তব্য করে যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী।”

- Advertisement DFP -

পড়ুন আরও- দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে বাংলা ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত: আবুল বাশার

দীপেন পাঠক

অন্যদিকে এক সংবাদমাধ্যকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীপেন পাঠক মন্তব্য করেছেন, বাস্তবের মাটি থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন নেত্রী। এনআরসি ইস্যুতে অনেকাংশে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ভুল বলছেন বলেও দাবি তাঁর। যার ফলে অশান্তির কালো মেঘ দেখতে পারছেন সদ্য পদত্যাগ করা তৃণমূলের প্রাক্তন এই সদস্য।

পড়ুন আরও- অসমের বাঙালিদের জন্যে কুমিরের কান্না মমতার’

এভাবে হঠাত করে পরপর একাধিক নেতার পদত্যাগ অসমে বড়সড় ধাক্কার মুখে তৃণমূল। কারন দীপেন পাঠকের হাত ধরেই অসমের মাটিতে ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করেছিল তৃণমূল। হঠাত করে তাঁর দলত্যাগ অবশ্যই অসমের মাটিতে শাসকদলকে বেগ পেতে হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।

যদিও এহেন কিছু হবে না বলেই মন্তব্য স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। অন্যদিকে, এনআরসি ইস্যুতে পালটা বিজেপির সরকারের বিরুদ্ধেই তোপ দেগেছেন তারা। একই সঙ্গে যেভাবে শিলচর বিমানবন্দরে তৃণমূল প্রতিনিধি দলকে হেনস্তা করেছে পুলিশ তার প্রতিবাদ জানান স্থানীয় নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগে ৩,২৯,৯১,৩৮৪ বাসীর অসমে ২ কোটি ৪৮ লক্ষ মানুষ আইনত নাগরিক মর্যাদা পান৷ এনআরসি রেজিস্ট্রার জেনারেল সাংবাদিক বৈঠকে নাগরিকপঞ্জীর দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করেন৷ যাতে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যায়। আর এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী।

অবশ্য অপ্রকাশিত ৪০ লক্ষের বেশি মানুষকে নিশ্চিন্তে থাকতে বলছে ন্যাশনাল রেজিস্টার৷

Advertisement
----
-----