এনআরসি: ‘বিজেপি শাসিত ভারতে বাঙালিরা বিপন্ন হয়ে পড়বে’

ফাইল ছবি
তপোধীর ভট্টাচার্য

জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন৷ তালিকায় যে ৪০ লক্ষ অসমবাসীর নাম কাটা পড়েছে তার জেরে ছড়িয়েছে তীব্র বিতর্ক৷ এমনই পরিস্থিতিতে অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্য তাঁর মতামত খোলাখুলি জানালেন৷ www.kolkata24x7-কে৷ শিলচর থেকে সাক্ষাৎকারের পরিপ্রেক্ষিতে অনুলিখন অরুণাভ রাহারায়৷

ভারতবর্ষ তার মানচিত্র যুগে যুগে পাল্টেছে৷ ভারতবর্ষ শুধু মানচিত্র নয়, ভারতবর্ষ একটা আদর্শের নাম৷ রবীন্দ্রনাথের ‘ভারতবর্ষ’ কবিতাটি পড়লেই সেই আদর্শ সম্পর্কে আমাদের ধারণা জন্মায়৷ স্বামী বিবেকানন্দেরও একটা ধ্যানের ভারত ছিল৷ যেটা রাজনৈতিক পাটিগণিতের উর্ধ্বে৷ আমার মনে হয় দেশভাগ আদি পাপ৷ আমি তার ভেতরের তাত্ত্বিক দিক বুঝে দেখার চেষ্টা করেছি৷ হিন্দু-মুসলমানের লড়াই তখন প্রবল ছিল না৷ জিন্না, নেহরু প্রমুখ কিছু ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ক্ষমতার স্বার্থে দেশটাকেই ভাগ বাঁটোয়ারা করেছেন৷

পড়ুন: বেনিয়াদের স্বার্থে চাষিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র NRC : আজিজুল হক

- Advertisement -

মানুষের পরিচয় জাতিসত্ত্বা দিয়ে৷ যে আমার সঙ্গে নেই সে আমার শত্রু-এই কথাটা আধুনিক ভারতে মানায় না৷ আজকের বিজেপি শাসিত ভারতে দাঁড়িয়ে মনে হয় শ্মশানে আছি৷ ১৯৬০ সালের জুলাই মাসে গুরুশ্বরে গণহত্যা হয়েছিল৷ যার ফলে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে বহু মানুষ বরাক উপত্যকায় এসেছিল৷ তখন থেকেই ‘বঙ্গাল হঠাও’ শুরু হয়৷ বাঙালিরা যেন অপরাধী৷ ২০১৪ সালের পর থেকে হত্যার মারণোৎসবে পরিণত হয়েছে৷ জাতি বিদ্বেষের ফল অসমে ভয়াবহ৷

আরও পড়ুন: NRC:‘ভিটেছাড়া নয় বরং কাড়া হোক ভোটাধিকার’

বাংলা ভাষায় কথা বলা কোনও অপরাধ নয়৷ অসমিয়াদের একমাত্র সম্বল বাঙালি বিদ্বেষ৷ এখন আবার শুরু হয়েছে অমিত শাহর নব্য দ্বিজাতিতত্ত্ব৷ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পাশে দাঁড়িছেন৷ তিনি আমাদের সমস্যাকে মানবিকতার সঙ্গে দেখেছেন৷ তিনি চেষ্টা করার পরে আন্তর্জাতিক স্তরে এনআরসি ইস্যু পৌঁছেছে৷ আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ৷

বিজেপি সরকার সব বাঙালিকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এতে ভারতের বাঙালিরা বিপন্ন হয়ে পড়বে৷

Advertisement
----
-----