বুক জলে দাঁড়িয়েও ওঁরা গাইলেন ‘বুক-ভরা’ স্বাধীনতার গান

গুয়াহাটি: স্বাধীনতা দিবস৷ নিখাদ ছুটির দিন৷ সকালে পতাকা তুলে স্বাধীনতা উদযাপন৷ বাড়িতে বসে দুপুরে জমিয়ে কচি পাঁঠার ঝোল৷ টিভি স্বদেশী সিনেমা৷ সঙ্গে ভাতঘুম৷ সন্ধ্যায় আড্ডা৷ অথবা শপিং৷ স্বাধীনতা বলতে এটুকুই৷ কিন্তু, স্বদেশপ্রেম দেখানো বাবুদের স্বাধীনতা পালনের এই ছবিকে এক লহমায় চুরমার করে দিল অসম৷ দেশজুড়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালনের চাকচিক্য এক মুহূর্তেই ম্লান করে দেশের জন্য ভালোবাসার অনন্য নজির গড়লেন বন্যাদুর্গত অসমের বাসিন্দারা৷ এভাবেও যে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা যায়, তা দেখালেন অসমের প্রান্তিক ধুবরি জেলার অখ্যাত নস্করা লোয়ার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ও পড়ুয়ারা৷ এক ছবিতেই নড়ে গেছে গোটা ভারতবর্ষ৷

লাগাতার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গোটা অসম৷ ভয়াবহ বন্যায় চরম সংকটে ১৫টি জেলার প্রায় ৭৮১টি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ৷ প্রবল বর্ষণে নদীগুলিও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে৷ চাষের জমিও ক্ষতিগ্রস্থ৷ প্রায় ১৯,৪৮১হেক্টর জমি এই বন্যার কবলে প্লাবিত হয়ে গিয়েছে৷ আপাতত ১৪হাজার মানুষ নিরাপদে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন বিভিন্ন স্কুলে ও ক্যাম্পে৷

কিন্তু, তাতে কী? বন্যায় বাড়ি ভেসে গেলেও এভাবেও যে দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখানো যায়, তা আরও একবার প্রমাণ দেখালেন অসমের বাসিন্দারা৷ অর্ধেক ঢুবে যাওয়া স্কুল বাড়ির ছাদে জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে উদযাপিত হল দেশের ৭১তম স্বাধীনতা দিবস৷ জলের তোড়ে ঘর-বাড়ি ভেসে গেলেও দেশের জন্য নিজেদের কর্তব্য পালনে অবিচল থাকলেন প্রান্তিক অঞ্চলের বাসিন্দারা৷ বাঁশের মাথায় বেঁধে ওড়ানো হল ত্রিরঙ্গা৷ একবুক জলে দাঁড়িয়ে গাওয়া হল জাতীয় সঙ্গীত৷ শিক্ষকদের সঙ্গে গলায় গলা মেলালেন ছাত্র ছাত্রী ও গ্রামের বাসিন্দারাও৷ গলাজলে দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে ক্ষুদে পড়ুয়ারাও গেয়ে উঠে, জন গণ মন অধিনায়ক…

জয় হে জয় হে জয় হে

জয় জয় জয় হে……..

---- -----