NRC:‘ভিটেছাড়া নয় বরং কাড়া হোক ভোটাধিকার’

ফাইল ছবি

গৌতমী সেনগুপ্ত: ‘দেশহীন’ যখন তখন ভোটাধিকারও নেই৷ অসমের নাগরিকপঞ্জী চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪০ লক্ষ অসমবাসীর প্রসঙ্গে এমনই মতামত দিল্লিতে থাকা সেই রাজ্যের ভূমিপুত্রদের৷ যদিও সংখ্যায় বড়সড় গরমিল আছে বলেও মেনে নিচ্ছেন তাঁরা৷

নয়াদিল্লির জেএনইউ-তে বেশকয়েকজন অসমিয়া পড়ুয়াদের সঙ্গে এনআরসি নিয়ে কথা বললাম৷ এদের বাড়ি গুয়াহাটি থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত এলাকায়৷ সেই পড়ুয়ারা জানাচ্ছেন, সাম্প্রদায়িকতা,জাতিবিদ্বেষ সেই অর্থে না থাকলেও, রাজ্যের রাজনৈতিক ভাগ্য কখনই ‘বাংলাদেশি’-রা নির্ধারণ করতে পারে না৷ দীর্ঘ বছর ধরে অসমে উন্নয়ন নেই, কারণ ভোট ব্যাংকে এগিয়ে থাকছে সীমান্ত পেরিয়ে আসা মানুষরা৷ এটা বন্ধ হওয়া উচিত৷ তাঁদের দাবি, NRC-র সঠিক প্রয়োগ হোক, বেআইনি ভাবে যাঁদের বসবাস তাঁদের নিখুঁতভাবে বের করা হোক৷ সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হোক ভোটাধিকার৷

পড়ুন:বেনিয়াদের স্বার্থে চাষিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র NRC : আজিজুল হক

- Advertisement -

জেএনইউ-ত পিএইচডির ছাত্রী চিন্ময়ী দাস জানাচ্ছেন, দিনের পর দিন একটা অসম অনুপাতের মধ্যে রয়েছেন অসমবাসীরা৷ ভোটাধিকারের অনুপাত করলে সেখানে ভূমিপুত্রদের সংখ্যা থাকছে ৪০ শতাংশ বা তারও কম৷ প্রশ্ন উঠছে, নাগরিক হয়ে কেন এই অসম অনুপাত? NRC প্রয়োগ করে এই বেআইনি পদ্ধতি বন্ধ করা উচিত৷ চিন্ময়ীর দাবি, বাঙালি ও বাংলাদেশিদের কেউ গুলিয়ে ফেলছে না৷ বেআইনি পথে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলেই তিনি মনে করছেন৷ তবে, এই সংখ্যাটা কখনই ৪০ লক্ষ নয়৷ তার অনেকটাই কম বলে দাবি চিন্ময়ীদের৷ আরও জানিয়েছেন, বিজেপি বা কোনও শাসক দলই অসমের ভিতরের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে না৷ তারা রাজনীতির প্যাঁচেই NRC-কে ফেলছে৷ আর সেই কারণেই সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে৷ আসল কাজটাই তারা করছে না৷ ভোট আসলে বোঝা যায় নিজেদের রাজ্যেই কতটা ব্রাত্য অসমিয়ারা৷ সেই দায় কখনই বাংলাদেশিদের নয় বরং প্রশাসনের৷

পড়তে পারেন:মেঘালয় সীমান্তে ‘বাংলা’ বললেই মার খাচ্ছেন যাত্রীরা

আরও এক পড়ুয়া অভিষেক জানাচ্ছেন, অসমের গ্রামগুলিতে জবরদখল চলে৷ জমি দখল নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রক্ত ঝরে৷ এই সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িকতার উস্কানিও ওঠে৷ কে আটকাবে কাদের? কেউ নেই৷ NRC নিয়ে আশা একটাই-যদি আইনি ভাবে বিষয়টিতে দেখা হয়, তাহলে অসমিয়াদের নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়বে৷

আরও পড়ুন:নিম্ন অসমে বড়সড় নাশকতার ছক জেএমবি জঙ্গিদের-NIA

জেএনইউতে পড়েন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি যারা গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কিমি ভিতরে থাকেন৷ তাদের দাবি, বড় সংখ্যক বাংলাদেশি অসমে বেআইনি মানচিত্র আঁকড়ে আছেন৷ হতে পারে দীর্ঘ বছর ধরেই৷ তাই তাদের ভিটেছাড়া নয় বরং নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়া হোক৷ ভোটের অধিকার তাদের নেই, এটা জোর করে প্রাপ্য বলেই মনে করছেন অসমিয়া তরুণরা৷

Advertisement
---