‘ইনহেলার গ্রহণে বাস্তব এবং কাল্পনিক বাধা রয়েছে’

আগের তুলনায় বেড়ে চলেছে অ্যাজমা অর্থাৎ, হাঁপানি৷ কিন্তু, হাঁপানি কি সেরে যায়? তা হলে, এই অসুখটা আসলে কী? অ্যাজমা কি অ্যালার্জির-ই প্রকাশ? আর, এই অসুখের চিকিৎসা মানেই কি ইনহেলার? না, চিকিৎসার অন্য পদ্ধতিও রয়েছে? শুধুমাত্র তাই নয়৷ অনেকে এমনও মনে করেন যে, শীতের সময়ই হাঁপানি বেড়ে যায়৷ সত্যিই তাই? তা হলে, এই অসুখ প্রতিরোধের উপায়-ই-বা কী? অ্যাজমার কোনও প্রতিষেধক আছে? এমনই বিভিন্ন বিষয়ে www.kolkata24x7.com-এ বলছেন ন্যাশনাল অ্যালার্জি অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস ইনস্টিটিউট-এর অধিকর্তা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল

আরও পড়ুন: ভালো কাজে মমতার পুরস্কারের বদলে দিতে হল ইস্তফা

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল৷
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল৷

ইনহেলার গ্রহণে কি বাধা আছে? বাধা তো আছেই৷ তবে সুখের বিষয় এই যে আমরা সেই বাধাকে কাটিয়ে উঠেছি৷ আগে বাস্তব বাধাটির কথা বলি, পরে কাল্পনিক যে বাধা তার মুখোমুখি হওয়া যাবে৷ যাদের আমরা METERED DOSE INHALER (MDI) বলি, সেগুলো যেহেতু স্প্রে ফর্মে থাকে– সেই জন্য হাতে টেপা ও প্রশ্বাসে টানা সময় মতো হওয়া খুবই জরুরি৷ চিকিৎসকরা একে বলেন HAND-MOUTH-CO-ORDINATION৷ সত্যিই এর জন্য প্রশিক্ষণ লাগে৷ আমাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: কম করে ১৫ মিনিট ধরে তিন বার বোঝালে রোগী তা ভালোভাবে বুঝতে পারেন৷ আর এই মুশকিলকে সহজ করার জন্য এসে গিয়েছে DRY POWDER INHALER (DPI))৷ এগুলো যেহেতু হাওয়ায় ছড়িয়ে যায় না, তাই রোগী নিজের সুবিধা মতো নিতে পারেন ইনহেলার৷ তবে সব ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে নেওয়ার পদ্ধতিটা শেখানো চিকিৎসকের একটি অবশ্য পালনীয় কাজ৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: মদনের ‘রোগ’ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে মেডিক্যাল বোর্ড

এ বিষয়ে একটা মজার ব্যাপার আছে, রোগী যত নিশ্চিতভাবে চিকিৎসককে জানাবেন যে, তিনি ইনহেলার ভালো নিচ্ছেন এবং তাঁর আর কোনও পরীক্ষা নেওয়ার দরকার নেই, সেক্ষেত্রে কিন্তু প্রায় ততটাই নিশ্চিত যে তিনি ঠিকঠাক নিচ্ছেন না৷ এই শেষ কথাটিতে লুকিয়ে আছে, আমাদের এক অদ্ভুত দ্বিধা৷ ইনহেলার নেওয়ার কাল্পনিক বাধা এটাই৷ কেন লোকে ইনহেলার নিতে চান না? রয়েছে অনেক মত৷ তার মধ্যে একটা এই যে, সাধারণভাবে যা কিছু নেশার বস্তু ভারতে বহু কাল ধরে এই পদ্ধতিতেই নেওয়া হয়ে আসছে৷ যেমন ধূমপান, গাঁজা, বিভিন্ন ধরনের ড্রাগসও৷ হাঁপানি সম্বন্ধে অনেক অজ্ঞ ধারণাও এর জন্য দায়ী৷ লোকে চায় না যে রোগটা অন্যরাও জানতে পেরে যাক৷

আরও পড়ুন: সরকারি মদতে নিষিদ্ধ ওষুধের ব্যবসা হাসপাতালে

কিন্তু প্রশ্ন হল, চশমা পরতে যদি বাধা না থাকে, তাহলে অসুখ সারানোর জন্য ইনহেলার নেওয়াতে লজ্জা কেন? আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, রোগীকে বোঝালে তাঁরা গুরুত্বটা বুঝতে পারেন৷ তাই অযথা লজ্জা বা কোনও দ্বিধা রাখবেন না৷ কিংবা নেওয়ার পদ্ধতি জটিল মনে করে এড়িয়ে যাবেন না৷ ইনহেলার নেওয়ার পদ্ধতি কি জটিল? জটিল নয়, তবে শিখতে হয়৷ যা বলেছিলাম, ইনহেলার মূলত দু’ ভাবে নেওয়া যায়৷ একটা স্প্রে– একে বলে METRE DOSE INHALER (MDI), অন্যটি গুঁড়ো অর্থাৎ, DRY POWDER INHALER (DPI)৷ MDI নিতে ভালো প্রশিক্ষণের দরকার৷ সময় মতো হাতে টেপা ও মুখ দিয়ে বুক ভরে টেনে নেওয়া৷ চিকিৎসকরা যাকে বলেন HAND MOUTH CO-ORDINATION৷ এটি ভুল হলে সব প্রচেষ্টাই মাটি৷ তুলনায় DPI নেওয়া অনেক সহজ যেহেতু তা স্প্রে-র মতো মুহূর্তে হাওয়ায় ছড়িয়ে যায় না৷

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

গোটা পৃথিবী জুড়েই তাই গবেষণা এবং চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন এখন এর দিকেই ঝুঁকছে, খুব ছোট বাচ্চারাও তো এই অসুখ থেকে রেহাই পায় না, তাই তারা ঠিক মতো নিতে পারে না৷ এমনকী অনেক বড়রাও ঠিকঠাক ইনহেল করতে পারেন না৷ তাই ছোট ও বড় যাঁরা MDI ঠিক নিতে পারেন না, তাঁদের জন্য আছে MDI-এর সঙ্গে একটি চোঙার মতো SPACER৷ SPACER স্প্রেটিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ধরে রাখে এবং রোগী ধীরে ধীরে তা নিতে পারেন৷ খুব ছোট বাচ্চাদের জন্য MDI ও SPACER-এর সঙ্গে BABY MASK ব্যবহার করা যেতে পারে৷ ইনহেলার নেওয়ার আর এক পদ্ধতি নেবুলাইজার৷ কিন্তু সেটা মূলত যাঁরা খুব বেশি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বা কিছুতেই ইনহেলার নিতে পারেন না, তাঁদের জন্য৷(পঞ্চম কিস্তি)

আগের কিস্তি পড়ুন: ‘ইনহেলারের স্টেরয়েডে দ্বিধায় থাকেন চিকিৎসকও’

শেষ কিস্তি পড়ুন: ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় অ্যাজমার ভ্যাকসিন’

 

_________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) বিনামূল্যের ওআরএস-ই নেই দু’কোটির হাসপাতালে
(০২) ‘বুড়ো ঘোড়া’-ই এখন তিলোত্তমার রাত-ভরসা!
(০৩) তৃণমূলের ডাক্তাররাই মেনে নিলেন চিকিৎসার ব্যর্থতা
(০৪) ওয়াই-ফাই কলকাতা একদিন ভেনিস-লন্ডন হবে!
(০৫) মানুষের খাদ্য হিসেবে নিখোঁজ হচ্ছে রাস্তার সারমেয়রা!
(০৬) ছোটদের বিয়ে ছোটরা রুখেই নিঃশব্দ বিপ্লবে যৌনপল্লি
(০৭) রাজনীতির ফাঁদে ইউনানির সরকারি অধিগ্রহণের স্বপ্ন
(০৮) ফোঁটা পেল বোনদের ভুলে না যাওয়া সারমেয়-ভাই
(০৯) নোয়াখালি-স্মৃতি আঁকড়ে তসলিমাকে ফেরাবে বাঙালি!
(১০) তসলিমার বিস্ফোরণে নির্লজ্জ বাম-তৃণমূলের কলকাতা!
(১১) এফআইআর সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে এখন ফেক ডাক্তার

_________________________________________________________________

Advertisement
---