‘সত্যকে জানলে-বুঝলে সম্পূর্ণ সেরে যায় অ্যাজমা’

আগের তুলনায় বেড়ে চলেছে অ্যাজমা অর্থাৎ, হাঁপানি৷ কিন্তু, হাঁপানি কি সেরে যায়? তা হলে, এই অসুখটা আসলে কী? অ্যাজমা কি অ্যালার্জির-ই প্রকাশ? আর, এই অসুখের চিকিৎসা মানেই কি ইনহেলার? না, চিকিৎসার অন্য পদ্ধতিও রয়েছে? শুধুমাত্র তাই নয়৷ অনেকে এমনও মনে করেন যে, শীতের সময়ই হাঁপানি বেড়ে যায়৷ সত্যিই তাই? তা হলে, এই অসুখ প্রতিরোধের উপায়-ই-বা কী? অ্যাজমার কোনও প্রতিষেধক আছে? এমনই বিভিন্ন বিষয়ে www.kolkata24x7.com-এ বলছেন ন্যাশনাল অ্যালার্জি অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস ইনস্টিটিউট-এর অধিকর্তা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল

হাঁপানি অর্থাৎ, অ্যাজমা কি সারে? আপনি ঈশ্বর দেখেছেন? অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন৷ রোগ না সারলেই যে চিকিৎসা করতে হবে না বা করা যাবে না, এমন কোনও কথা নেই৷ তবুও রোগীরা চিকিৎসকের কাছে প্রথমেই এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর চান, হাঁপানি কি সারে?

আরও পড়ুন: সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল৷
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল৷
- Advertisement -

নরেন্দ্রনাথও এই রকমই সংশয়ে ভুগছিলেন৷ শিক্ষিত আধুনিক যুবক জানতে চেয়েছিলেন ঈশ্বরের উপলব্ধি সত্য কি কারও হয়েছে? না কি সবটাই এক কল্পনা, বিশ্বাস বা অলীক বিভ্রম? অনেক ঘুরে তিনি পৌঁছলেন দেবেন্দ্রনাথের কাছে৷ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথকে একই প্রশ্ন, আপনি ঈশ্বরকে দেখেছেন? শোনা যায় দেবেন্দ্রনাথ একটু ঘুরিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন – তোমার চোখ দুটো যোগীর মতো৷ তুমি চেষ্টা করলে তাঁকে দেখতে পারো৷ তার পরে সেই অলৌকিক অভিজ্ঞতা৷  দক্ষিণেশ্বরের এক অল্প শিক্ষিত গ্রামীণ তাঁর হাত ধরে বললেন – দেখেছি, তোকেও দেখাতে পারি৷

আরও পড়ুন: ‘বৈপ্লবিক উন্নয়নে’র পিজি-তেও ভরসা নেই সরকারের!

বিজ্ঞানের সমস্যা এই যে, সে পরীক্ষিত সত্য কথনে দায়বদ্ধ৷ কিন্তু, সেই অবস্থানে থেকেও বলা যায়, হাঁপানি ১০০ ভাগ সারে৷ আমাদের বোঝবার বা বোঝাবার কোথায় ভুল হচ্ছে সেটা একটু পরীক্ষা করে দেখা যাক৷ হাঁপানি বলতে যদি আমরা মনে করি – এই কষ্ট, এই দম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বুকে সাঁই সাঁই, মাঝরাত্রে কাশি, কিংবা আরও এগিয়ে সশব্দে সাইরেন বাজিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স বাড়িতে এসে রোগীকে হাসপাতালের আইসিইউ-তে পৌঁছে দেওয়া, হাঁপানি বলতে যদি এগুলি বুঝি, তা হলে হাঁপানি ১০০ ভাগ সারে৷ মুশকিল হচ্ছে লোকে হাঁপানি কি সারে বলতে আসলে বোঝেন – আমি কবে ইনহেলারটা বন্ধ করতে পারব? উত্তরে জানাই, সেটা আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে পড়ছে না৷

আরও পড়ুন: বিশ্বাসযোগ্যর নামে ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা!

ইনহেলার কি বন্ধ করা যায়? নিশ্চয়ই যায়৷ ইনহেলার কমানো যায়, বন্ধ করা যায়৷ যদি আপনি ১০০ ভাগ ভালো থাকেন তবেই৷ অর্থাৎ, ইনহেলার বন্ধ করাটা আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে পড়ে না৷ আমাদের লক্ষ্য আপনাকে ১০০ ভাগ সুস্থ করা৷ হাঁপানি অসুখটাতে Gene বা বংশানুর অবদান আছে৷ যদিও শুধু বংশানু থাকলেই (পরে বলছি) হাঁপানি অসুখ হয় না৷ কিন্তু, বংশানু তো আর বদল করা যাচ্ছে না৷ কাজেই সতর্কতা বরাবর মেনে চলতে হবে৷ মুশকিল হচ্ছে, মানুষ যেমন সত্যকে জানতে চায়৷ আবার ঠিক তেমনই অপ্রিয় সত্যকে অস্বীকারও করতে চায়৷ আপনার পাড়ায় যে চিকিৎসক নবীন, সবে প্র্যাকটিস শুরু করেছেন, তিনিও জানেন এই তথ্য৷ কোনও বাচ্চার মাকে যদি বলা হয় বাচ্চার অসুখটা হাঁপানি, মা তখনই খুব রেগে গিয়ে বলবেন, আমাদের বংশে কারও হাঁপানি নেই৷ এই স্ব-বিরোধই চিকিৎসককে সত্য জানানো থেকে বিরত করে৷

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

হাঁপানির দুটো দিক আছে৷ একটা হচ্ছে বর্তমান৷ অর্থাৎ, বর্তমানে রোগী ভালো আছে বা নেই৷ আরেকটা অংশ হচ্ছে ভবিষ্যৎ৷ অর্থাৎ, আজকে কেমন আছেন তার থেকেও জরুরি, আজ থেকে ২০-৪০ বা ৬০ বছর পরে কেমন থাকবেন৷ চিকিৎসার মূল লক্ষ্য কিন্তু সেখানে৷ ব্যস্ত চিকিৎসক জানেন প্রতিটি রোগীর প্রতি এতটা সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়৷ অনেক সময়ই হাঁপানি জেনেও ডায়াগনোসিসে হাঁপানি কথাটি লেখাই হচ্ছে না৷ কাজেই হাঁপানি সারার প্রথম ধাপ হল, সত্যকে জানা৷ অর্থাৎ, রোগীর যে হাঁপানি হয়েছে সেটা সর্বতোভাবে রোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া বা জানানো৷ হাঁপানি একটা অসুখ, এই সত্য জানা এবং বোঝাই হাঁপানি সারার প্রথম ধাপ৷ হাঁপানি অসুখটি ১০০ ভাগ সারে৷ (প্রথম কিস্তি)

পরের কিস্তি পড়ুন: ‘অ্যালার্জির বহু রূপ-প্রকাশের একটি হল অ্যাজমা’

_________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) ভালো বাসা-র তুলনায় ইলিশ যে বেশি ভালোবাসার!
(০২) প্রথার নামে প্রকাশ্যে গণধর্ষণ যেখানে এখন এক খেলা!
(০৩) পূর্ব ভারতের বিরল নজিরে রক্ষা পেল কিশোরীর প্রাণ
(০৪) মুমূর্ষুর প্রাণরক্ষায় ক্যাসুয়ালটি ব্লক চাইছেন ডাক্তাররা
(০৫) সরকারি নির্দেশেই অকেজো মাল্টি-সুপার হাসপাতাল
(০৬) ভালোবাসার অধিকার প্রাপ্তির জন্য আর্জি প্রধানমন্ত্রীকে
(০৭) হাসপাতালে বেড না পেলে পৌঁছে যেতে হবে কালীঘাটে!
(০৮) ৪.৫ কোটি ভুক্তভোগীতেও চাপা পড়ে যাবে সারদাকাণ্ড!
(০৯) কলকাতায় এ বার উবের ক্যাব চালাবেন যৌনকর্মীরা
(১০) ‘সারদার সত্যকে ধামাচাপা দিয়েছে মমতার সরকার’
(১১) দাভোলকর-পথে কুসংস্কারের ক্রম মুক্তি হবে বাংলায়!

_________________________________________________________________

Advertisement
---