‘অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় অ্যাজমার ভ্যাকসিন’

আগের তুলনায় বেড়ে চলেছে অ্যাজমা অর্থাৎ, হাঁপানি৷ কিন্তু, হাঁপানি কি সেরে যায়? তা হলে, এই অসুখটা আসলে কী? অ্যাজমা কি অ্যালার্জির-ই প্রকাশ? আর, এই অসুখের চিকিৎসা মানেই কি ইনহেলার? না, চিকিৎসার অন্য পদ্ধতিও রয়েছে? শুধুমাত্র তাই নয়৷ অনেকে এমনও মনে করেন যে, শীতের সময়ই হাঁপানি বেড়ে যায়৷ সত্যিই তাই? তা হলে, এই অসুখ প্রতিরোধের উপায়-ই-বা কী? অ্যাজমার কোনও প্রতিষেধক আছে? এমনই বিভিন্ন বিষয়ে www.kolkata24x7.com-এ বলছেন ন্যাশনাল অ্যালার্জি অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস ইনস্টিটিউট-এর অধিকর্তা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল

আরও পড়ুন: সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল৷
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল৷

কী কী খাওয়া যাবে না? সাধারণ ভাবে কোনও বারণ নেই৷ কোনও খাবার খেলে নিশ্চিতভাবে যদি বোঝা যায় যে হাঁপানির প্রকোপ হচ্ছে, তবেই সেটা বাদ দেওয়া যেতে পারে৷ এ নিয়ে বহু কুসংস্কার ও অবিজ্ঞান প্রচলিত আছে৷ সাধারণ ভাবে অ্যালার্জি টেস্ট করে ফুড অ্যালার্জি ভালোভাবে বোঝা যায় না৷ সবচেয়ে ভালো উপায় হল, ফুড ডায়েরি, যেটা মায়েরা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চেষ্টা করে দেখতে পারেন৷ হাঁপানির কি কোনও ভ্যাকসিন আছে? না নেই, তবে আগে অটো ভ্যাকসিন বলে একটা জগাখিচুড়ি চালু ছিল৷ কোনও বিশেষ বস্তুর প্রতি ভয়ঙ্কর রকম অ্যালার্জি থাকলে সেটিকে নিরসন করার চেষ্টায় ওই বস্তুটি খুব অল্প মাত্রায় ধীরে ধীরে শুরু করার একটা চিকিৎসা আছে৷ এর নাম SPECIFIC IMMUNO THERAPY৷ যদিও সাধারণ ভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়৷

- Advertisement DFP -

আরও পড়ুন: নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে আইনের বদলে ভরসা ফেসবুক

হাঁপানি কি বাড়ছে? এ প্রশ্ন তো সকলের মুখে৷ উত্তর হচ্ছে, বাড়ছে যদিও সর্বত্র সমানভাবে নয়৷ কারণ হিসেবে অনেক মত আছে৷ যেটা সব চেয়ে গ্রহণযোগ্য মনে হয়, তা হচ্ছে মানবজাতির বর্তমানে অত্যধিক কৃত্রিম জীবনযাপন৷ মানুষ যত প্রকৃতি থেকে সরে গিয়ে গাড়ি, কার্পেট, ইনডোর ভেনটিলেশন এসবে অভ্যস্ত হচ্ছেন, ততই বেড়ে চলেছে এ অসুখ৷ কারণ আমাদের ‘প্রাকৃতিক ইমিউন সিস্টেম’ এই কৃত্রিমতাকে গ্রহণ করার জন্য তৈরি হয়নি৷ শুনতে অবাক লাগলেও অংশত সত্যি, যে বাচ্চারা অপরিচ্ছন্নতা ও বীজাণুর সঙ্গে সহাবস্থানে বড় হচ্ছে, তাদের হাঁপানির প্রবণতা কম৷ হাঁপানির প্রতিরোধ কী?

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

সহজ উত্তর হল, সঠিক জীবনযাত্রাই হাঁপানির প্রতিরোধ৷ যেহেতু অসুখটার প্রায় ৬০ শতাংশ বংশানুঘটিত এবং আমরা তা বদলাতে পারি না, সেই জন্য বাকি ৪০ শতাংশের উৎপত্তি যে পরিবেশ, তাকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে৷ আবহাওয়ার তাপমাত্রার ঘন ঘন তারতম্য, বিছানার চাদরে লুকিয়ে থাকা ছত্রাক এবং কিছু উদ্ভিদের পরাগরেণু, এই তিন হাঁপানির প্রধান বাহনকে এড়িয়ে চলতে হবে৷ শত্রু থেকে সাবধান থাকলেই বিপদ আসে না৷ হাঁপানি কি শীতে বাড়ে? শীতকালেই হাঁপানি বাড়ে, এ কথাটা সত্যি নয়৷ হাঁপানি নিয়েও সব আবহাওয়াতে এবং সব পরিবেশে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকা যায়৷ বৈজ্ঞানিক সচেতনতা, সঠিক জীবনযাপনের পদ্ধতি এবং সর্বোপরি ইনহেলারের মাত্রা মতো ব্যবহার সব লোককে ভালো রেখেছে৷

আরও পড়ুন: ‘বৈপ্লবিক উন্নয়নে’র পিজি-তেও ভরসা নেই সরকারের!

ইনহেলড কর্টিকো স্টেরয়েড হাঁপানির একটি পরীক্ষিত, স্বীকৃত ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা– যত আগে শুরু করা যাবে তত ভালো৷ স্টেরয়েড কি বন্ধ করা যায়? নিশ্চয়ই যায়৷ কমানো যায়, এমনকী বন্ধও করা যায়৷ কিন্তু সেটা চিকিৎসকদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে৷ চিকিৎসক যদি বোঝেন তা হলে তিনি ধীরে ধীরে ইনহেলড কর্টিকো স্টেরয়েডের মাত্রা কমাতে এবং অবশেষে বন্ধ করতে পারেন৷ শেষ করার আগে জোরের সঙ্গে জানাই ইনহেলড কর্টিকো স্টেরয়েড বন্ধ করাটা চিকিৎসার লক্ষ্য নয়৷ এখানেই হাঁপানি সারা বা না সারা নিয়ে ধন্দ৷ আরোগ্যই লক্ষ্য৷ আবারও সেই পাথরের গল্প, যত গড়াবে তত তার গতিবেগ বাড়বে৷ তাই, হয় ভালো থাকবেন আর না হলে খারাপ থাকবেন৷ মাঝখানে ত্রিশঙ্কুর জন্য কোনও জায়গা নেই৷ আসুন সবাই মিলে চোখ খুলে বাঁচি, উটপাখি হয়ে নয়৷ সত্যকে জানা ও উপযুক্ত ইনহেলার ব্যবহার আপনার ভালো থাকার চাবিকাঠি৷ (শেষ)

আগের কিস্তি পড়ুন: ‘ইনহেলার গ্রহণে বাস্তব এবং কাল্পনিক বাধা রয়েছে’

প্রথম কিস্তি পড়ুন: ‘সত্যকে জানলে-বুঝলে সম্পূর্ণ সেরে যায় অ্যাজমা’

_________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) বিশ্বাসযোগ্যর নামে ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা!
(০২) ‘চিকিৎসায় উন্নয়নের নামে ভাঁওতা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী’
(০৩) ‘সারদার সত্যকে ধামাচাপা দিয়েছে মমতার সরকার’
(০৪) ৪.৫ কোটি ভুক্তভোগীতেও চাপা পড়ে যাবে সারদাকাণ্ড!
(০৫) হাসপাতালে বেড না পেলে পৌঁছে যেতে হবে কালীঘাটে!
(০৬) গ্রামে না গেলে বিশেষজ্ঞ হতে পারবেন না ডাক্তাররা!
(০৭) পথ-প্রান্তিক শিশুদের জন্য কলকাতায় এখন টয় ব্যাংক
(০৮) সংবিধানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বন্ধ সরস্বতী পুজো!
(০৯) সরকারি অর্থ মেলেনি বলে গরিব-বাড়ির ভরসা ক্লাব!
(১০) দুর্বারকে অচ্ছুৎ রেখে সোনাগাছিতে স্বাবলম্বন স্পেশাল
(১১) বিপর্যয় মোকাবিলায় নিধিরাম মমতার ‘উন্নত’ দফতর

_________________________________________________________________

Advertisement
----
-----