স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: সময়ে ফলাফল প্রকাশ করে গৌড়বঙ্গে নজির সৃষ্টি করল বালুরঘাট কলেজ৷ শনিবার স্নাতকোত্তর বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে৷

পরীক্ষার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশের ঘটনায় ছাত্রছাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে৷ বিগত বছরগুলিতে কবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ পাবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হত৷ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফল প্রকাশিত হলেও দেখা গিয়েছে অধিকাংশরই ক্ষেত্রে তা অসম্পূর্ণ৷ যা নিয়ে অন্যান্য শিক্ষাঙ্গনের মতো বালুরঘাট কলেজেও ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ বিক্ষোভ ও আন্দোলন লেগেই ছিল৷

Advertisement

গত বছর গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে মালদহ কলেজ ও বালুরঘাট কলেজকে স্বশাসিত ঘোষণা করা হয়েছিল৷ স্বশাসিত হওয়ার পর থেকে কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ পঙ্কজ কুণ্ডুর নেতৃত্বে শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়াস৷ বিশেষ করে কলেজের পঠনপাঠনের উন্নতি ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও তার ফল প্রকাশ করার প্রচেষ্টা৷ আর তাতেই মিলেছে সাফল্য৷

গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় স্নাতকোত্তর বিভাগের বাংলা ইতিহাস ও সংস্কৃত বিষয়ের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা৷ যা সম্পন্ন হয়েছিল ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই৷ এই পরীক্ষা গ্রহণ পর্বের জন্য যাতে কোনও ভাবেই পরবর্তী সেমিস্টারের প্রস্তুতি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সমস্যায় পড়তে না হয়, সেদিকেও বিশেষ খেয়াল রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ৷

পরীক্ষা শেষের পরদিন থেকেই শুরু হয় পরবর্তী সেমিস্টারের পঠনপাঠন৷। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার প্রায় ২১ দিনের মধ্যে ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে৷ যা গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্বশাসিত মালদহ কলেজের ক্ষেত্রে এখনও সম্ভব হয়নি৷

বালুরঘাট কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ পঙ্কজ কুণ্ডু এব্যাপারে জানিয়েছেন যে স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল বাংলা বিষয়ে ৬৮জন, ইতিহাসে ২৬ ও সংস্কৃতের ২৭ জন ছাত্রছাত্রী প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় বসেছিল৷ পরীক্ষার শেষ হতেই পরদিন থেকে যথারীতি ক্লাস শুরু করে দেওয়া ও তিন সপ্তাহের মধ্যে রেজাল্টও প্রকাশ করা হয়েছে৷

পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সংস্কৃতে ২৭জনই পাশ করেছে ও ১৭জন ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে৷ ইতিহাসে পাশ করেছে ২৫জন ও ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে ১২জন৷ পাশাপাশি বাংলায় পাশ করা ৬৬ জনের মধ্যে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে ৩৩জন৷ স্বশাসিত কলেজ হিসেবে দ্রুত ও নির্ভুল ফল প্রকাশে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ গুলির মধ্যে তাঁরাই প্রথম বলেও ডঃ পঙ্কজ কুণ্ডু দাবি করেছেন৷

----
--