করিমের হাতের কোর্মায় মজতেন ব্রাহ্মণ সন্তান বাজপেয়ী

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : আরএসএসের সেবক হলেও তেমন গোঁড়ামি ছিল না অটল বিহারি বাজপেয়ীর মধ্যে৷ এই বিজেপি নেতার আচরণের নানা ভাবেই তা প্রতিফলিত হয়েছে – এমনকি তাঁর খাদ্যাভাসেও তা দেখা যেত ৷ নিরামিষ নয় বরং আমিষভক্ত ছিলেন ভারতের দশম প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। এমন কি তাঁরই খাদ্য তালিকায় বিশেষ পছন্দের মধ্যে ছিল মটন কোর্মা, শিক কাবাব । এইসব খাবারের জন্য করিম’স রেস্তোরাঁর স্পেশ্যাল পাক তাঁর খুবই পছন্দের ছিল৷।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের একনিষ্ঠ সংঘী নাকি মাংসের হার চিবোচ্ছেন। তাও উত্তর ভারতের কট্টর ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তানের রহিম করিমের হাতে রাঁধা মাংস প্রেমের কাহিনী স্রেফ গল্প বলে মনে হতে পারে। তথ্য যাচাই করতে গেলে গুগল বাবার সাহায্য ছাড়া উপায় নেই।

ফোনে করিমের দোকানে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমের নম্বরটিতে ফোন না লাগলেও দ্বিতীয় নম্বরটি বার তিনেক রিং হতেই একজন ফোন ধরলেন। তবে টাওয়ারের সমস্যায় লাইন কেটে গেল। ফের ফোন করতে শোনা গেল ওপারের গম্ভীর গলায় প্রশ্ন ‘করিম’স। বলিয়ে কেয়া চাহিয়ে?”

- Advertisement -

খাবার নয় খবরের জন্য এই ফোন করায় রিসেপশন থেকে ফোনে ধরিয়ে দেওয়া হল রেস্তোরাঁর ডিরেক্টর রহিমুদ্দিন আহমেদীকে। তিনিই জানালেন অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে তাঁদের রেস্তোরাঁর মাংসের ‘প্রেম’ আলাপের গল্প। রহিমুদ্দিন আহমেদী বলেন, “উনি কোনওদিন আমাদের দোকানে বসে মাংস খাননি বা এই দোকানে এসে মাংস কিনে নিয়ে যাননি, তবে এখান থেকে দিল্লির বাড়িতে বহুবার আমাদের মাংস গিয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের স্পেসালিটি রয়েছে মটন শিক কাবাব আর দরগা। এগুলোই উঁনি বেশি পছন্দ করতেন।”

১৯১৩ সালে এই জামা মসজিদের গলিতেই মাংসের বিভিন্ন পদের ছোট্ট দোকান চালু করেন হাজি করিমুদ্দিন। সেই থেকে ১০০ বছর পেরিয়ে রমরমিয়ে চলছে মাংসের বিভিন্ন সুস্বাদু পদের ব্যবসা। জামা মসজিদের কাবাবিয়ানা গলির এক নম্বর গেটে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে করিম’স রেস্তোরাঁর। রেস্তোরাঁটি এক ডাকে সবাই চেনে। দিল্লির জামা মসজিদ বেড়াতে গিয়েছেন কিন্তু করিম’স এর মাংস চেখে দেখেননি এমন মানুষ কম রয়েছে। সংঘি তথা ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হলেও করিমের দোকানের মাংসের স্বাদ নিতে দ্বিধা করেননি অটলজি।

Advertisement ---
---
-----