জানেন কোন পদ্ধতিতে এটিএম থেকে গায়েব হচ্ছে আপনার সঞ্চয়ের টাকা?

সুভাষ বৈদ্য,কলকাতা: এটিএম কার্ড নিজের কাছে থাকা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব৷ গ্রাহক কলকাতায় থাকলেও দিল্লির বিভিন্ন এলাকার এটিএম ব্যবহার করে তুলে নেওয়া হয়েছে টাকা৷ ইতিমধ্যে দক্ষিণ কলকাতার ৭৬ জন গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগ করেছেন পুলিশকে৷

কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি জানালেন, বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের ১৮-২০ লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছে ৷ শুধু গ্রাহক নয় অভিযোগ এসেছে কানাড়া ব্যাঙ্ক,পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক,কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের কাছ থেকেও৷ যদিও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্তে নেমে কলকাতায় দু’টি এটিএম মেশিনের খোঁজ পেয়েছে একটি দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট গোলপার্কের কানাড়া ব্যাঙ্কের এটিএম মেশিন অন্যটি মল্লিক বাজারের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এটিএম৷ এই দু’টি এটিএম এ প্রতারকরা স্কিমিং মেশিনের মাধ্যমে এটিএম কার্ডের তথ্য ক্লোন করে টাকা লোপাট করেছে৷

- Advertisement -

 তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে কি সেই পদ্ধতি জানুন-

প্রতীকী ছবি

১) এটিএম বুথের ভিতরে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ ও ভিডিও ক্যামেরা স্থাপন করা হয়৷ ওই নির্দিষ্ট সময়ে ওই সব বুথে ব্যবহৃত এটিএম এর তথ্য ও পিন নম্বর সংগ্রহ করে নকল কার্ড বানিয়ে জালিয়াতি করা হয়৷

২) ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ও পিন নম্বর সংগ্রহ করতে দরকার হয় একটি স্ক্যানার, যাকে স্কিমিং ডিভাইস বলা হয়৷। এটিএম মেশিনে কার্ড রিডারের কাছাকাছি কোথাও ক্ষুদ্র ওই স্ক্যানার বসাতে হয়। অর্থাৎ এটিএম মেশিনের যেখানে কার্ড ঢোকানো হয় ওই অংশটি কে প্রতারকরা খুলে নিয়ে সেখানে একটি ডুপ্লিকেট ডিভাইস লাগিয়ে দেয়৷

৩) কোনও কার্ড মেশিনে ঢোকানো হলে তার ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ থেকে গ্রাহকের সব তথ্য ওই স্ক্যানার কপি করে ফেলে। পরে স্ক্যানার থেকে পাওয়া ওই তথ্য একই ধরনের চিপ অন্য একটি ফাঁকা কার্ডে ভরে দিলেই তৈরি হয়ে যায় ক্লোন। অর্থাৎ গ্রাহকদের ডুপ্লিকেট কার্ড তৈরি করা হয়৷

কিভাবে গ্রাহকের পিন নম্বর জেনে নেয় প্রতারকরা

১) ডুপ্লিকেট কার্ড দিয়ে টাকা তুলতে হলে দরকার গ্রাহকের পিন নম্বর। তাই পিন নম্বর জানার জন্য প্রতারকরা এটিএম মেশিনের কি-বোর্ড, স্পিকার, আশে পাশে বা ওপরের কোনও জায়গায় বসানো হয় অতিক্ষুদ্র ক্যামেরা।

২) এটিএম মেশিনের কি-বোর্ডের ওপর একটি ডুপ্লিকেট কি-বোর্ড লাগানো হয়৷ ওই কি-বোর্ডের নিচে রাখা থাকে একটি মাইক্রো চিপ৷ কোনও গ্রাহক ডুপ্লিকেট কি-বোর্ডে পিন নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই পিন নম্বর মাইক্রো চিপ এ স্টোর হয়ে যায়৷

এটিএম মেশিন ব্যবহারের আগে গ্রাহকরা কি করবেন

১) এটিএম কার্ড ব্যবহারের আগে মেশিনের স্কিমিং ডিভাইস ও কি-বোর্ডটি পরীক্ষা করে নিন৷ ওই গুলো আলগা আছে কিনা৷ থাকলে মেশিনটি ব্যবহার করবেন না৷

২) যে এটিএম বুথে নিরাপত্তা কর্মী নেই সেটি ব্যবহার করবেন না৷

৩) যে এটিএম বুথে নিরাপত্তা কর্মী আছে তার কাছে জেনে নিন বুথে ‘এন্টি-স্কিমিং ডিভাইস’ আছে কি না থাকলে বুঝবেন এটিএম বুথটি নিরাপদ৷

৪) এটিএম মেশিনের আশেপাশে কেউ থাকলে মেশিনটি ব্যবহার করবেন না৷

Advertisement ---
---
-----