গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত ঔরঙ্গাবাদ স্বাভাবিক হচ্ছে ধীরে ধীরে

ফাইল ছবি! ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগ নেই ছবির

মুম্বই:  ঔরঙ্গাবাদের জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে৷ তবে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে৷ ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে৷ জলের সমস্যা নিয়ে হিংসার পরে বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল ঔরঙ্গাবাদের পরিস্থিতি৷ যা আস্তে আস্তে আবার স্বাভাবিক হচ্ছে৷ পুলিশ এই ঘটনার চক্রান্তকারীদের গ্রেফতার করেছে৷ এখন পুরো এলাকায় রয়েছে পুলিশের টহলদারি৷ এখনও পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

জলের অবৈধ পাইপ লাইন কাটা নিয়ে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ শহরে শুক্রবার রাত প্রায় দশটা থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়৷ সেই উত্তেজনা ছড়াতে সময় লাগেনি৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়৷ আগুন জ্বলতে থাকে শহরে৷ দুই ব্যক্তির মৃত্যুও হয় এই ঘটনায়৷ প্রায় ৬০ জন জখম হন৷ সেই অশান্ত পরিস্থিতির ৪০ ঘণ্টা পরে এখন ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে এলাকা৷ শান্ত হয়েছে পরিস্থিতি৷ কিন্তু এলাকায় পুলিশের টহলদারি রয়েছে৷ মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রঞ্জিত পাটিল জানিয়েছেন “ঔরঙ্গাবাদ কান্ডের তদন্ত করতে একটি উচ্চ স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে৷”

জায়গায় জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে৷ তার ফলও ফলেছে৷ পুলিশ মোতায়েন রাকার ফলে বেশ কিছু অসামাজিক কাজকর্ম করা ব্যক্তিকে ধরা হয়েছে৷ তাদের কাছ থেকে ধারাল অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে৷ সেই পরিস্থিতি থাকলে পরিস্থিতি আবারও যেকোনও সময় খারাপের দিকে যেতে পারে৷ তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের হাতে এসেছে বেশ কিছু পেট্রল বোমা, কেরোসিন ভেজা বেশ কিছু বল মিলেছে৷

- Advertisement -

ঔরঙ্গাবাদ হিংসা নিয়ে যেসব ভিডিও ও ছবি সামনে এসেছে তার উপর ভিত্তি করে এখনও পর্যন্ত তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ গুজবে লাগাম টানতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল৷ তা এখনও বন্ধই রয়েছে৷ শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা রয়েছে৷ মহারাষ্ট্র সরকার এই হিংসার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে৷

AIMIM এর সভাপতি ও হায়দেরাবাদের সাংসদ অসদুদ্দিন ওয়েইসি ট্যুইট করে ঔরঙ্গাবাদের হিংসার তদন্তের দাবি করেন৷ বিশেষ করে হিংসা ছড়ানোর পেছনে ডে রচ্চু পহলওয়ানের নাম উঠে এসেছে সেই ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি জানান এবং এলাকায় শান্তি ফেরাতে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও আবেদন জানান৷

ঔরঙ্গাবাদের পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল মিলিন্দ ভারবে জানিয়েছেন “রিপোর্ট অনুযায়ী পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া ১৭ বছরের কিশোরের সৎকার করা হয়েছে৷ শহরের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক৷” এছাড়াও তিনি বলেন “আমরা কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বড় সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রেখেছি৷ সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে যাতে কোনও গুজব না ছড়ায় বা সন্ত্রাস ও হিংসা না ছড়ায় তাই আমরা ইন্টারনেট পরিষেবা আপাতত বন্ধ করে রেখেছি৷ আমরা মানুষকে গুজবে বিশ্বাস করতে বারণ করে দিয়েছি ও পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা জারি রাখতে সাহায্য করতে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেছি৷”

এক পুলিশ আধিকারিকের কথা অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় দশটা নাগাদমোতি কারঞ্জা এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে৷ সেই সংঘর্ষ ছড়ায় গান্ধীনগর, রাজা বাজার, শাহগঞ্জ ও সরাফা এলাকায়৷ তিনি জানান হিংসায় দু’জনের মৃত্যু হয় এবং পুলিশকর্মী সমেত ৬০ জনের বেশি জখম হন৷ এই হিংসায় প্রাণ যাওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তি ৬৫ বছরের বৃদ্ধ৷ দাঙ্গাকারিরা যখন তাঁর পাশের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তখন তিনি নিজের ঘরেই আটকে পড়েছিলেন৷ প্রায় একশো দোকান পুরিয়ে দেয় তারা এবং ৪০ টিরও বেশি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়৷

ওই পুলিশ আধিকারিক জানান হিংসা প্রভাবিত এলাকায় স্থানীয় পুলিশ, স্টেট রিজার্ভ পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করা হয়৷ তল্লাসি অভিযানের সময় পেট্রল বোমা ও কেরোসিনে ডোবানো বেশ কিছু কাপড়ের বল পাওয়া গিয়েছে৷ স্থানীয় সূত্র মারফত খবর, বিগত বেশ কিছু দিন ধরেই মোতি কারঞ্জায় চাপা উত্তেজনা ছিল৷ কারণ পুরসভা অবৈধ জলের কানেকশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছিল৷ যখন একটি প্রার্থনার জায়গায় অবৈধ জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় তখনই বিষয়টা সাম্প্রদায়িক রঙ নিয়ে নেয়৷

Advertisement ---
---
-----