দশ মিনিটের রাস্তায় অটোওয়ালা চাইছে ৫০ টাকা !

দেবযানী সরকার, কলকাতা: মঙ্গলবার বেলা পৌনে এগারোটা৷ উল্টোডাঙা স্টেশনের চার নম্বর গেটের কাছে গিজগিজে ভিড়৷ তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই অফিসযাত্রী৷ সিংহভাগ লোকের গন্তব্যের অভিমুখ সল্টলেক৷ কেউ সিটি সেন্টার, কেউ পূর্ত ভবন, কেউ করুণাময়ী কিংবা সেক্টর ফাইভ যাবেন৷ যাঁরা বাদুর ঝোলা হয়ে বাসে যেতে পারবেন তাঁরা লাফিয়ে কোনওমতে বাসের হ্যান্ডেল ধরে নিচ্ছেন৷ আর বাকিরা ছটফট করছেন একটা অটোর জন্য৷ অফিসযাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ধরে কোনও অটো সল্টলেকে যেতে চাইছে না৷ যারা চাইছে তারা ২৫, ৫০, ১০০ টাকা ভাড়া হাঁকাচ্ছে৷ এই অটো দৌরাত্মের বিহিত চাইছেন দুর্ভোগে পড়া যাত্রীরা৷

উল্টোডাঙা থেকে করুণাময়ী পর্যন্ত ১০টি রুটে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ অটো চলে। এই রুটে অধিকাংশই অফিসযাত্রী৷ তাদের মধ্যে বেশিরভাগ অটোতে যাতায়াত করেন৷ নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিদিনই অফিস টাইমে এধরণের সমস্যা হয়ে থাকে এই রুটে৷ যেমন, উল্টোডাঙা স্টেশন থেকে পূর্ত ভবনের ভাড়া ১৪ টাকা৷ কিন্তু বহু অটোওয়ালা ১৫ টাকা, ২০টাকা ভাড়া হাঁকেন৷ ওঠার আগেই যাত্রীদের বলে দেন৷ তাতে কেউ গেলে যাবে না গেলে না যাবে৷ আর একটু বৃষ্টি বা জ্যাম হলে তো কথাই নেই৷ ২৫ এমনকি ৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া হাঁকে তারা৷

উল্টোডাঙা স্টেশন থেকে সিটি সেন্টার যাবেন পূজা সূত্রধর৷ তাঁর কথায়, ‘ফাঁকা অটোগুলো সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে৷ প্রায় চল্লিশ মিনিটের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছি৷ অটোগুলোকে সিটি সেন্টার বলতে বলতে মুখ ব্যথা হয়ে গেল৷ কেন যেতে চাইছে না বুঝতে পারছি না৷ যারা যাবে বলছে তারা ২৫-৫০ ভাড়া চাইছে৷’

- Advertisement -

উল্টোডাঙা থেকে লালকুঠি যাবেন বলে হাডকো মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা কুন্তল রায়চৌধুরী। তাঁর কথায়, বাসে এত ভিড় ওঠা যাচ্ছে না৷ অটোর ভাড়া বাড়ানোর পরও তারা যদি সাধারণ মানুষের সঙ্গে এরকম করে তাহলে কী করা যাবে৷ প্রশাসনের উচিত খুব তাড়াতাড়ি এর একটা বিহিত হওয়া দরকার৷

এই ব্যাপারে বিধান নগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের বক্তব্য, “আমার কিছু করার নেই৷ এটা পুরোটাই রাজ্যের পরিবহন দফতরের বিষয়৷” উল্টোডাঙা থেকে করুণাময়ী রুটের তৃণমূল পরিচালিত অটো ইউনিয়নের নেতা তথা বিধান নগর পুরসভার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্মল দত্ত বলেন, “যাত্রীরা যদি একটু শক্ত হন তাহলে আমরা এগুলো আটকাতে পারব৷ অটো স্ট্যান্ডে আমাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে৷ কোনও অটো চালক না যেতে চাইলে কিংবা ভাড়া বেশি চাইলে যাত্রীরা আমাদের সরাসরি জানাক৷ আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব৷”

অটোওয়ালাদের দৌরাত্ম নতুন ঘটনা নয়৷ যাত্রীদের হেনস্থা করে মাঝেমধ্যেই খবরে থাকেন অটোওয়ালারা৷ পুলিশ-প্রশাসনের কোনও কড়া নির্দেশই তাদের কানে ঢোকেনা৷ কারণ তাঁরা সবাই ‘রাজা’৷ তাই নিজেদের নিয়মেই চলেন৷ নিজেদের নিয়মেই ভাড়া চান৷ পুলিশ-প্রশাসন মাঝেমধ্যে ফোঁস করলেও ইউনিয়নের দাদাদের ছত্রছায়ায় থাকা অটোওয়ালাদের টিকিটা তারা ছুঁতে পারেন না৷ যার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে৷

Advertisement ---
---
-----