স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: চাপ পড়তেই নিজেদের পুরনো পন্থা বেছে নিল বিধাননগর রুটের অটোওয়ালারা৷ সোমবার অফিস টাইমে ধর্মঘট ডেকে নিত্যযাত্রীদের আরও ভোগান্তি বাড়াল তারা৷ অন্যদিনের মতো এদিনও অটো সমস্যায় জেরবার হলেন কয়েক হাজার অফিসযাত্রী৷

উল্টোডাঙা-বিধাননগর রুটে অটোচালকদের দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ৷ কারণ এই রুটের সিংহভাগ অটোচালকই মনে করেন, তারা সবাই রাজা৷ অনেকদিন ধরেই কাটা রুটের সমস্যা, যেমন খুশি ভাড়ার জুলুম, অটো চালকদের দুর্ব্যবহার, পছন্দ অনুযায়ী রুটে অটো চালানো-এই চার সমস্যায় জেরবার যাত্রীরা৷ তাঁদের অভিযোগ, বৃ্ষ্টির দিনে ২৫ টাকার ভাড়া ৫০, ১০০ টাকাও নেন অটো চালকরা। বাধ্য হয়েই গত সোমবার উল্টোডাঙায় পথ অবরোধ করেন যাত্রীরা৷

Advertisement

যাত্রীদের ক্ষোভ সামাল দিতে শেষপর্যন্ত মাঠে নামেন এলাকার বিধায়ক তথা ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী সাধন পান্ডে৷ গত শুক্রবার অটো চালকদের তিনি নির্দেশ দেন, যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে৷ যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া বা যেমন ইচ্ছা ভাড়া চাওয়া যাবে না। অটো স্ট্যান্ডের কাছেই একটি বড় বোর্ড লাগানো হবে, যেখানে বিভিন্ন রুটের ভাড়ার তালিকা থাকবে। সেই অনুযায়ী ভাড়া নিতে হবে চালকদের।

মন্ত্রী যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা কোন সমস্যায় পড়লে সেই নির্দিষ্ট গাড়ির নম্বর দিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরে৷ যাত্রীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে সংশ্লিষ্ট দফতর এবং সে ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন অটোচালকরা৷ তিনি আরও বলেন যাত্রীরা সমস্যায় পড়লে নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে যোগাযোগ করুন৷তারপর কয়েকটাদিন নির্দিষ্ট ভাড়া নিচ্ছিলেন অটোচালকরা৷ কিন্তু নিজেদের নিয়মের বাইরে চলা তাদের ধাতে নেই৷ তাই দু-চারদিন ঠিক থাকার পর নিজেদের চেনা ছকেই ধর্মঘট করে অফিস যাত্রীদের পাল্টা দিল তারা৷ ধর্মঘট ডাকার জন্য পুলিশি জুলুমকে দায়ী করলেও আসলে এটা যে বাড়তি ভাড়া না নিতে পারার ফল বলেই যাত্রীরা৷

এক অফিস যাত্রীর কথায়, “মন্ত্রীর চাপে কয়েকদিনে আয় কম হয়েছে৷ এটা কী আর বেশিদিন ওরা সহ্য করতে পারে? তাই ধর্মঘট করে নিজেদের ক্ষমতা বোঝাতে চাইছে৷ আর পুলিশ ফাইন নিচ্ছে বলে যে অভিযোগ ওরা করছে তাহলে সেই অভিযোগ এতদিন কেন করেনি? মানুষ কী কিছু বোঝে না?”

----
--