‘মুসলিম’ শব্দ কেটে পাক বিরোধী সংঘর্ষে গিয়েছিল আওয়ামি লিগ

( শনিবার ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী৷ সেই উপলক্ষে পাল্টাচ্ছে ঠিকানা৷ নতুন ভবনে থাকছে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের নিদর্শন)

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামি লিগের পথচলা দীর্ঘ সাত দশকের। শনিবার দলটি ৭০ বছরে পদার্পণ করছে৷ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সাজো সাজো রব৷ অনুষ্ঠান থেকেই প্রধানমন্ত্রী তথা দলনেত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশেষ বার্তা দিতে চলেছেন৷ পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের পুরোভাগে থাকা দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দ বাতিল করা হয়েছিল৷ ধর্ম নিরপেক্ষতার শক্তিকে হাতিয়ার করেই মুক্তিযুদ্ধে নেমেছিল আওয়ামি লিগ৷ ১৯৭১ সালের সেই রক্তাক্ত সংঘর্ষের ইতিহাস ছাড়াও গত সাত দশকের ইতিহাস জড়িয়ে এই দলটির সঙ্গে৷

.শুরুটা হয়েছিল ২৩ জুন ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামি মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে৷ পরবর্তীকালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামি লিগ।

- Advertisement -

.১৯৫২ সালের বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে আন্দোলনে রক্ত ঝরে ঢাকার মাটিতে৷ এরপরে ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়৷ নাম রাখা হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামি লিগ।

.পরের দশকগুলি ছিল তীব্র গণসংগ্রামের৷ পূর্ব পাকিস্তানের রাজপথে সাধারণ মানুষের লড়াই৷ সেই পথ ধরেই ১৯৬৬ সালের শেখ মুজিবুর রহমানের তোলা ছয় দফা দাবিই ছিল স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রথম রাজনৈতিক দিক নির্দেশ৷ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি তীব্র আলোড়ন তৈরি করে৷

.১৯৬৯ সালের রক্তাক্ত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর্ব৷ পাক রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি৷ পতন হয় আয়ুব খান জমানার৷

.১৯৭১ সালে রক্তাক্ত মুক্তিসংগ্রামের নেতৃত্বে আওয়ামি লিগ৷ তীব্র লড়াইয়ের পর পাকিস্তান থেকে ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশ তৈরি হয়৷ এর পরে দলটির নাম হয় বাংলাদেশ আওয়ামি লিগ৷

সত্তর বছরে পৌঁছে বদলে যাচ্ছে দলের ঠিকানা৷ জন্ম থেকে এতদিন ঢাকার গোপীবাগে রোজ গার্ডেনে ছিল কেন্দ্রীয় কার্যালয়। শনিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে নবনির্মিত ১০ তলা অত্যাধুনিক ভবনে নতুনভাবে যাত্রা শুরু হচ্ছে আওয়ামি লিগের। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তথা সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল ৯টায়। তার আগে ভোরে ঢাকায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা নেতাসহ থাকছেন ৪ হাজার ১৫৭ জন।

নবনির্মিত ১০ তলা ভবনের দেয়াল জুড়ে দলীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা। একপাশে দলীয় প্রতীক চিহ্ন নৌকা। এর সামান্য ওপরে বড় করে লেখা ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।’ চতুর্থ তলার সামনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের নিদর্শন থাকছে। ষষ্ঠ তলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের টেরাকোটা প্রতিকৃতি।

দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য বিরাট কক্ষের পাশাপাশি থাকছে বিশ্রামাগার ও নমাজের জায়গা। এছাড়া অন্যান্য ফ্লোরে থাকছে ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, সাংবাদিক সম্মেলনের কেন্দ্র ও ক্যাফেটেরিয়া। আর বিভিন্ন তলায় থাকবে ছাত্রলিগ, যুবলিগ সহ বিভিন্ন শাখা সংগঠনের কার্যালয়৷

Advertisement ---
---
-----