অযোধ্যা: বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বরের কথা আজও ভোলেনি অযোধ্যার মানুষ। কিন্তু এত আগুন জ্বলার পরও বদলায়নি কিছু জিনিস। আজও কাউকে কাউকে দেখলে বোঝার উপায় নেই এদের গায়েও লেগেছিল সেই আগুনের আঁচ।

বছর ৬৫-র মহম্মদ সেলিম বানান কাঠের খড়ম। বছরের পর বছর এটাই বানিয়ে আসছেন তিনি। কবে প্রথম শুরু করেছিলেন মনে করতে পারেন না। শুধু এটুকুই তাঁর মনে আছে, একদিন এক সাধু একজোড়া খড়ম কিনতে এসে তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করেছিলেন। ‘সেলিম’ বলায় হেসেছিলেন শুধু। আর প্রত্যেক বছর তাঁর কাছ থেকেই জুতো কিনতে আসেন ওই সাধু। সেলিমের বাবাও খড়ম বানাতেন, তাঁর বাবাও তাই। বংশ পরম্পরায় অযোধ্যার হিন্দু সাধুদের জন্য খড়ম বানায় এই পরিবার। সেলিমের কথায়, ‘অযোধ্যায় কাজ করতে কোনও অসুবিধা হয় না আমাদের। সবাই জানে আমরা মুসলিম। তবু আমাদের কাছ থেকেই সবাই খড়ম কেনে।’ তবে ২৫ বছর আগের ওই দিনটাই ঘর-দোকান ফেলে পালাতে হয়েছিল সেলিমকেও। সব ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

babri
সেলিমের মত অনেকেই, সেইদিনটার কথা মনে করলে আজও কেঁপে ওঠেন। অযোধ্যার হনুমান ঘড়ির কাছে বাবু বাজার এলাকায় পুজোর সামগ্রী বিক্রি করেন নাইমা খাতুন। তিনিও শিউরে ওঠেন সেদিনের কথা ভেবে। তবে পুজোর জিনিস বিক্রি করায় কোনও ক্লান্তি নেই নাইমার। আলমগড়ি কাটরার অন্তত ১২টি মুসলিম পরিবার পুজোর জন্য মালা গাঁথে। গোলাপ আর গাঁদার মালা গেঁথে দেয় হনুমানজির জন্য। তাঁদের কথায়, জমি নিয়ে বিবাদ রয়েছে ঠিকই। কিন্তু হিন্দু-মুসলিমের মাঝে আর কোনও সমস্যা নেই। গুড়িয়ার বাড়িতে রোজ বিছানো থাকে অজস্র ফুল। গাঁথা হয় মালা। কিন্তু ওইদিনটা গুড়িয়ার জীবনেও অভিশপ্ত। তাঁর বাড়িটাও সেদিন ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবে মুসলিম পরিবারগুলোর মতে স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলোর সঙ্গে তাঁদের সখ্যতার সম্পর্কে কোনও চিড় ধরেনি। শুধু একটাই ক্ষতচিহ্ন, ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২।

----
--