সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ৫০০০ বছরের পুরনো চিকিৎসা শাস্ত্রকে ফেরানোর চেষ্টায় নামছেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা। মর্ডান চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোপে পড়ে হারিয়ে গিয়েছে আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসা। তুলনায় খরচ অনেক বেশি হলেও আলোপ্যাথির দিকেই মানুষ ঝুঁকেছে। ফলত যে চিকিৎসা মূল থেকে রোগকে বিনষ্ট করে তা হারিয়ে গিয়েছে। সেটাই ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন অসিত পাঁজা, শিশির প্রসাদ৷

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (AVBP) একটি আয়ুর্বেদীয় সেমিনার আয়োজন করে। সেখানেই দুই চিকিৎসক এসে পাঁচ হাজার বছর আগের পুরনো মর্মশাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করলেন তাঁরা। মর্ম শাস্ত্র আসলে আকুপাংচার যা শুদ্ধ ভাষায় মর্ম শাস্ত্র নামেই পরিচিত। অসিত পাঁজা জানিয়েছেন , “আয়ুর্বেদের অঙ্গ মর্মশাস্ত্র আসলে বাংলার মাটি থেকেই উৎপত্তি হয়েছে। এর কার্যকরিতাও প্রচুর। এটা মানুষ ভুলে গিয়েছে। কিন্তু এটা হওয়া উচিৎ নয়। মর্মশাস্ত্রকে বাংলা তথা বিশ্বের বুকে ফেরানোর একটা চেষ্টা করছি।”

একটু জেনে নেওয়া প্রয়োজন মর্মশাস্ত্র কিভাবে কাজ করে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মানুষের শরীরের মধ্যে রয়েছে প্রচুর নার্ভ। এই সিস্টেমকেই কাজে লাগায় মর্মশাস্ত্র। চিকিৎসক শিশির প্রসাদ জানিয়েছেন, “পায়ের কোনও পুরনো ব্যথা যেমন সারাতে পারে এই চিকিৎসা। তেমন হৃদযন্ত্রে কোনও সমস্যা দেখা দিলেও ঠিক করতে পারে এই চিকিৎসা।”

অসিত পাঁজা জানিয়েছেন, “আমি বহু বছর ধরে এই চিকিৎসা করছি, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু মূল বাংলা থেকেই এর যোগ ছিঁড়ে গিয়েছে।” কেমন ভাবে কাজ করে মর্ম শাস্ত্র? তিনি জানিয়েছেন, “ নার্ভের সঠিক অংশগুলিতে চাপ দেওয়া হয়। যারা এই চিকিৎসা করেন তাঁরা মানব শরীরের ভিতরের প্রত্যকটি অংশকে খুব ভালো করে চেনেন। শরীরের এক অংশের নার্ভের সঙ্গে অপরটির যোগ রয়েছে। কোথায় চাপ দিলে কোথাকার ব্যথা ঠিক হতে পারে সেটা তাঁরা জানেন। সেভাবেই কাজ করে মর্মশাস্ত্র।” সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার নুপুর বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, “এমন অনেক রোগী আছেন যারা পুরোপুরিভাবে পক্ষঘাতে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়ানোর ক্ষমতা হারিয়েছিলেন। কিন্তু সঠিকভাবে মর্মশাস্ত্রের চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।”

তিনি এও জানিয়েছেন, “মাত্র দু মিনিটে বেশ কয়েক দিন ধরে বিরক্ত করতে থাকা ব্যথা সারিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।” পায়ের কোনও নার্ভ চেপে হাতের কোনও অংশের ব্যথাও ঠিক করে দেয় মর্ম শাস্ত্র। এদিনের সেমিনারে যোগ দিয়েছিলেন আয়ুর্বেদ নিয়ে পড়াশোনা করা বহু ছাত্র। উপস্থিত ছিলেন অনেক রোগী সহ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের বহু চিকিৎসকও।

আগামী দিনে আরও এমন সেমিনার করার চিন্তাভাবনা করছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ । লক্ষ্য বাংলার জিনিষকে মাটিতে ফেরানো। কিন্তু এর জন্য মানুষের দিকেও তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। আসলে মানুষ এর গুরুত্ব না বুঝলে কোনও দিনই এগোনো সম্ভব নয়।

----
--